শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

তিন বছর পর আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভা ৪ ডিসেম্বর

নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: তিন বছর পর হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সভা। আগামী ৪ ডিসেম্বর এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিবছর অন্তর অন্তর বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও গত তিন বছরে একবারও আহ্বান করা হয়নি। নিয়মিত বৈঠক না হওয়ার কারণে জাতীয় কমিটির সদস্যদের অনেকে হতাশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

অবশেষে নীতি-নির্ধারণী ফোরামের বহুল কাঙ্ক্ষিত বৈঠকটি ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে আগামী ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ জানান, আগামী ৪ ডিসেম্বর বিকেল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।

‘জাতীয় কমিটিতে কী কী বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেখানে বাজেট পাস, গঠনতন্ত্রে কোন রদবদল থাকলে সেটা হবে। মোটামুটি বাজেট পাস হলো মূল বিষয়। তারপর সম্মেলন হচ্ছে, সেটার বাজেট পাস। তারপর কোন রদবদল (গঠনতন্ত্র) থাকলে সেটা।’

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হওয়ার জাতীয় সভা এ বছরেই ডাকা হবে বলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন।

গঠনতন্ত্রের ১৭ (ক) ধারায় উল্লেখ আছে, ‘‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি জাতীয় কমিটি থাকিবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রত্যেক সাংগঠনিক জেলা হইতে একজন করিয়া সদস্য স্ব স্ব জেলা ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল কর্তৃক জাতীয় কমিটিতে নির্বাচিত হইবেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি কর্তৃক মনোনীত ২১ জন সদস্য এবং উপর্যুক্তভাবে নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যবৃন্দকে লইয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটি গঠিত হইবে। জাতীয় কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হইবে ৮১ (কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ), ৭৮ (সাংগঠনিক জেলা) ২১ জন (সভাপতি কর্তৃক মনোনীত) মোট ১৮০ জন।”

জাতীয় কমিটি দায়িত্ব হিসাবে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ আছে-(খ) জাতীয় কমিটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ ও কাউন্সিলের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করিবে। (গ) যে কোনো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিলকে সহায়তা করিবে। (ঘ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত ও কার্যাবলি পর্যালোচনা করিতে পারিবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনী বা বিশেষ অধিবেশনে গৃহীত প্রস্তাবসমূহ কার্যকর করিবে। (ঙ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হিসাব-নিকাশ গ্রহণ ও অনুমোদন করিবে। (চ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক কার্যনির্বাহী সংসদ কর্তৃক গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপীল বিবেচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে। (ছ) সংসদীয় পার্টি পরিচালনার জন্য নিয়মাবলি প্রণয়ন করিবে। (জ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অন্যান্য কর্মকর্তা পদাধিকার বলে জাতীয় কমিটির কর্মকর্তারূপে কার্যক্রম পরিচালনা করিবে। (ঝ) বছরে জাতীয় কমিটির একটি সভা আহ্বান করিতে হইবে। তবে দলের সভাপতির নির্দেশক্রমে একাধিক সভা আহ্বান করা যাবে।

দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় কমিটির বৈঠকের পর আসন্ন জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সঙ্গে সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের এক সভা গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে গঠনতন্ত্র উপ কমিটি ও অর্থ উপ-কমিটি, মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটি পৃথক পৃথক বৈঠক করেছে। জাতীয় সম্মেলনকে সামনে আওয়ামী লীগ ১২টি সম্মেলন প্রস্তুত উপ-কমিটি গঠন করেছে।

দলীয় সূত্র আরও জানান, জাতীয় কমিটির সভা তিন বছরে একবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এটা নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। এটা কেন হয় না তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামেও আলোচনা সমালোচনা রয়েছে। এ নিয়ে সদস্যদের কেউ কোন কিছু বলতেও অপরাগতা প্রকাশ করেন। এদিকে দীর্ঘদিন বৈঠক না হওয়ায় দলের ভেতরে-বাইরে জাতীয় কমিটির এখতিয়ার কি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে? এ বিষয়ে দলীয় নেতারা জানান, বর্তমানে দলের সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই গৃহীত হয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে। যে কারণে ওই ফোরামের খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০তম জাতীয় সম্মেলনে জাতীয় কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত কয়েকজন সদস্য মারা গেছেন। তাদের স্থলে সেসব জেলা থেকে জাতীয় কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেও দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সেল থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনীত জাতীয় সদস্যদের মধ্যে দলের উপদেষ্টাপরিষদ সদস্য, সাবেক সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ও প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যান। তার স্থলে আওয়ামী লীগ সভাপতি এখতিয়ার নিয়ে ওই জেলা থেকে জাতীয় কমিটির সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এবিষয়ে রাজবাড়ী জেলার সাবেক পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আকবর আলী মর্জি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি তো জানি না এখনও। আমি এখনও কোন চিঠি পাইনি। আমি জানি না।’

‘গঠনতন্ত্রে প্রতিবছর অন্তর অন্তর সভা হওয়ার কথা ছিল কিন্তু তিন বছরে একবারও হয়নি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আগেও জাতীয় কমিটির মেম্বর ছিলাম। বৈঠকের বিষয়ে এখনও কোনো কিছু পাইনি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’

ফেনী জেলা থেকে মনোনীত জাতীয় কমিটির সদস্য একজন সদস্য জানান, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। বলতেও চাই না।’

জাতীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক চীপ হুইপ আ স ম ফিরোজের সঙ্গে তিনি একটি মিটিংয়ে উপস্থিত আছেন উল্লেখ করে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন