শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

দুই মাসে ৩৪ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস

নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | ২:১৩ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দুই মাসে ৩৪ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৪৩ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে হাইকোর্টকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর এ প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ১২ ডিসেম্বর দিন ঠিক করে দেন।

গত ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল, ভেজাল ওষুধ বিক্রয়ে গৃহীত কার্যক্রম’ পরিচালনা করে অধিদফতরটি।

‘ঢাকার ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ’

বিজ্ঞাপন

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযান চলাকালে ১৩ হাজার ৫৯৩টি ফার্মেসি পরিদর্শন করে ৫৭২ টি মামলা করে ভ্রাম্যমান আদালত। এতে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একইসঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল, ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ২টি ফার্মেসি সিলগালা করা হয়।

এছাড়াও, একই সময়ে ৩৪ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৪৩ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়।

এ সময় আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি আর বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।

পরে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, অভিযানের সঙ্গে আমরা একমত। নকল ওষুধ যেন বাজারে না থাকে এটা আমরাও চাই। একটা আবেদন ছিলো ওষুধের গায়ে যেন বাংলায় লেখা থাকে। আমরা প্যাকেট খুলে দেখিয়েছি বাংলায় লেখা আছে। মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ইংরেজিতে লেখা। ওনারা স্ট্রিপ (পাতায়) চেয়েছেন বাংলায়। স্ট্রিপে ইংরেজিতে লেখা আছে। খুব একটা ভিজিবল হয়না। ফরমেটের কারণে। আমরা বলেছি ফ্যাক্টরি মালিকদের সঙ্গে বসবো। বসে যতটুকু সম্ভব করার চেষ্টা করবো, অলরেডি অনেকগুলো বাংলায় হয়ে গেছে। তবে শতভাগ যেন হয়। আমাদের বিদেশেও ওষুধ পাঠাতে হয়। তাই সবকিছু ঠিক করে একটি প্রতিবেদন দেব।

আর সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, এরইমধ্যে যাদের জেল জরিমানা করা হয়েছে, তারা যদি আবার একই ধরণের অপরাধে অভিযুক্ত হন, তখন তাদের বিরুদ্ধে স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্টে মামলা দায়েরের জন্য আদালত মৌখিকভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আদালত বলেছেন অনেক সময় বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি তাদের রিপ্রেজেন্টেটিভ দিয়ে চিকিৎসকদের প্রভাবিত করতে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন সেটা বন্ধ করার জন্য ওষুধ শিল্প মালিকদের বলেছেন আদালত।

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার/ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশনার আলোকে অভিযান পরিচালনা করে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর আজকে প্রতিবেদন দাখিল করে।

ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়। এ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে গত ১৭ জুন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এজেডকে/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন