শনিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বুধবার থেকে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিকদের কর্মবিরতি

নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | ২:১৫ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ১৭ নভেম্বর থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়েছে। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। এবার এলো সারাদেশে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধের ঘোষণা।

বিজ্ঞাপন

নতুন সড়ক পরিবহন আইন স্থগিত করে সংশোধনের জন্য ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বুধবার (২০ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করবে তারা।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পরিষদের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক রুস্তম আলী খান।

লিখিত বক্তব্যে রুস্তম আলী বলেন, ‘দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদও আইনের যুগোপযোগী পরিবর্তন চায়। কিন্তু নতুন কার্যকর হওয়া সড়ক পরিবহন আইন- পরিবহন শিল্পকে ধ্বংসের একটি নীল নকশা।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালক বা শ্রমিক একা দায়ী নয়, এজন্য বিভিন্ন কারণ রয়েছে।’

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো-

১. বর্তমান আইন সংশোধন করে মালিক-শ্রমিকের আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জরিমানা ও দণ্ড উল্লেখ করতে হবে।
২. সকল কমিটিতে ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি রাখতে হবে।
৩. সড়ক দুর্ঘটনায় চালককে এককভাবে দায়ী করা যাবে না, দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি রাখতে হবে। মামলায় কোনোভাবেই মালিককে হয়রানি করা যাবে না।
৪. রফতানিযোগ্য পণ্য পরিবহনের জন্য লং ভেইকেল চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
৫. কাগজপত্র চেকিংয়ের নামে রাস্তায় পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। নির্দিষ্ট একটি স্থানে কাগজপত্র চেকিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৬. সহজশর্তে ও স্বল্প সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে
৭. মহাসড়কের পাশে ট্রাক কাভার্ডভ্যান টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। টার্মিনাল নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত পার্কিংয়ের মামলা দেওয়া যাবে না।
৮. মোটরযানের শ্রেণি নির্ধারণপূর্বক একই নিয়ম ও ওজনে সমগ্র বাংলাদেশে ওভারলোডিং নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৯. সড়ক মহাসড়কের ৩০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা থাকা যাবে না। প্রতি ১০০ কিলোমিটার পর পর প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসহ বিশ্রামাগার নির্মাণ করতে হবে।

এদিকে নতুন পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে তেজগাঁও এলাকায় বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এছাড়া রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক গাড়ি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছেড়ে যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন