রবিবার ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে বাধা জবি শিক্ষকের

নভেম্বর ২০, ২০১৯ | ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

জবি করেসপন্ডেন্ট

জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মিশু অভিযোগ করেছেন, বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুনায়েদ আহমদ হালিম ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মিশু আরও অভিযোগ করেন, গত ১৭ নভেম্বর তাকে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিতে দেননি জুনায়েদ আহমদ হালিম। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হতে দেবেন না।

তিনি জানান, ১২ ব্যাচের কোর্সের অংশ হিসেবে গত ৮ মে শ্রেণিকক্ষে হলিউড সিনেমা দেখার নির্দেশ দেন জুনায়েদ হালিম। সিনেমার মাঝে কিছু আপত্তিকর দৃশ্য দেখায় জুনায়েদ হালিম শিক্ষার্থীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই একই সিনেমা পরবর্তীতে আবারও দেখা হয়। সেদিন তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান মিশু।

এরপর ২২ মে ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান সোহান ও মাহমুদুল হাসান মিশু, মিতৌরা মাহজাবিন ও সানজিদা আক্তারের নামে ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রক্টর বরাবর আবেদন করেন জুনায়েদ হালিম।

বিজ্ঞাপন

তার অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর মাহমুদুল হাসান সোহান ও মাহমুদুল হাসান মিশুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মিশুর সহপাঠীরা সারাবাংলাকে জানান, দ্বিতীয় দিন সিনেমা দেখার সময় মাহমুদুল হাসান মিশু উপস্থিত ছিলেন না।

প্রক্টর অফিসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাহমুদুল হাসান সোহানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। মাহমুদুল হাসান মিশুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে বলা হয়।

মিশু অভিযোগ করেন, এরপরও ক্লাসে অংশ নিতে পারেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জুনায়েদ হালিম বলেন, এ ধরনের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া উচিত না। এদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মানসিক যোগ্যতা নেই।

পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তাকে পরীক্ষা দিতে দেবো না।

প্রক্টর অফিসের অনুমতিপত্র পাওয়ার পরেও কেন পরীক্ষা দিতে দিচ্ছেন না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রক্টর অফিসের কোনো অর্ডার পাইনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শিল্পী সাহা বলেন, আমরা মাহমুদুল হাসানকে একাডেমিক কার্যক্রামে অংশ নিতে অনুমতি দিয়েছিলাম। নিয়ম অনুযায়ী প্রক্টর অফিসের অর্ডার চেয়ারম্যানের পাওয়ার কথা।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, চেয়াম্যান যদি পরীক্ষা দিতে না দেন সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। আমি এ বিষয়ে আর মন্তব্য করতে চাই না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, কাল এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআর/এটি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন