সোমবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২ পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

এখনো ৮০ লাখ বই ছাপতে পারেনি এনসিটিবি, মান নিয়ে শঙ্কা

নভেম্বর ২১, ২০১৯ | ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

তুহিন সাইফুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নতুন বছর আসতে বাকি আর মাত্র ৪০ দিন। কিন্তু এখনো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের কমপক্ষে ৮০ লাখ বই ছাপতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নভেম্বর শেষ হওয়ার আগেই বাকি বই ছাপার কাজ শেষ হবে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ বই ছাপানোর ক্ষেত্রে মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের মান কেমন হবে, তা নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে এনসিটিবি চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা সারাবাংলাকে বলেন, প্রকাশকেরা বই ছাপার কাজ দেরিতে শুরু করায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করা যায়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অংশে এরই মধ্যে ছাপা হওয়া বইগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ছাপা হওয়ার তালিকায় থাকা বইগুলোও যথাসময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পৌঁছে যাবে।

এনসিটিবির একটি সূত্র জানাচ্ছে, প্রাথমিকের ৭৭ ভাগ ও মাধ্যমিকের ৮৭ ভাগ বই মাঠ পর্যায়ে পাঠিয়ে দিয়েছে তারা। প্রাক-প্রাথমিক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ব্রেইল পদ্ধতির বইও এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে। বাকি বইও আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মো. জিয়াউল হক বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ব্রেইল পদ্ধতির শতভাগ বই এরই মধ্যে এলাকায় চলে গেছে। বাকিগুলো ছাপার কাজ চলছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বইগুলোর কাজ শেষের পর্যায়ে। এগুলোও যথাসময়ে পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, এখন পর্যন্ত ছাপা না হওয়া বইয়ের সংখ্যা ৮০ লাখ বা তার কিছু বেশি। চার শতাধিক ছাপাখানায় এসব বই মুদ্রণের কাজ চলছে।

নতুন বছর এগিয়ে আসায় এই ৮০ লাখ বই মুদ্রণের কাজ তাড়াহুড়ো করে শেষ করতে হবে বলে জানিয়েছেন এনসিটিবি’র কর্মকর্তারা। তারা আশঙ্কা করছেন, তাড়াহুড়ো করে ছাপানো এসব বইয়ের মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের মান খুব একটা ভালো হবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, এনসিটিবির বইয়ে প্রতিবছরই কোনো না কোনো ভুল থাকে। এবারও তেমনটা থাকলে অবাক হব না। কারণ শেষ লটের বইগুলো খুব তাড়াহুড়া করে ছাপাতে হচ্ছে। আগের লটের বইগুলো ঠিকঠাক থাকলেও শেষের এই বইগুলো তেমন না-ও হতে পারে।

তবে মান নিয়ে এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বইয়ের ছাপায় ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ছাপা বা বাঁধাইয়ের ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। আমাদের প্রকাশকরা প্রফেশনাল।

৩৫ কোটি বই

এনসিটিবি চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, এ বছর ৪৩টি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিকের পাঁচটি শ্রেণির বই ছাপানোর কাজ করছে। এই পাঁচ শ্রেণিতে দুই কোটি চার লাখ ৪১ হাজার ৫৯৫ শিক্ষার্থী পাবে ৯ কোটি ৮৫ লাখ পাঁচ হাজার ৪৮০ কপি নতুন বই। ৯৮টি লটে এগুলো ছাপানো হয়েছে। এসব বই পৌঁছে দিতে প্রায় ১৭ হাজার ট্রাক কাজ করছে।

এর বাইরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৯৭ হাজার ৫৭২ শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির জন্য পাঁচটি ভাষায় রচিত দুই লাখ ৩০ হাজার ১০৩ কপি বই একটি লটে ছাপানো হচ্ছে। এর সঙ্গে প্রাক-প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই মিলিয়ে মোট ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৩৮টি বই ছাপানো হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০ লাখ বেশি। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ১০ কোটি ৫৪ লাখ দুই হাজার ৩৭৫টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

এনসিটিবির সদস্য (অর্থ) মির্জা তারিক হিকমত বলেন, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের বই ছাপতে প্রায় ৮৮ হাজার টন কাগজ লাগছে। মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় সরকারের খরচ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপতে খরচ হচ্ছে ২৬৪ কোটি টাকা এবং মাধ্যমিক, ভোকেশনাল ও মাদরাসাসা পর্যায়ের বইয়ের জন্য ৬৬৫ কোটি টাকা।

এনসিটিবি’র ছাপানো বই নতুন বছর আসার আগেই চলে যায় স্কুলে স্কুলে। বই উৎসবের অংশ হিসেবে বছরের প্রথম দিনটিতেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই শুরু হয় নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন