বিজ্ঞাপন

যে কারণে আগুন থেকে রক্ষা পেল রাজধানী সুপার মার্কেট

November 21, 2019 | 1:00 pm

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর টিকাতলী-হাটখোলা রোডের ঢাকার সবচেয়ে পুরনো বাজার ‘রাজধানী সুপার মার্কেট’। এখানেই রয়েছে ‘নিউ রাজধানী সুপাট মার্কেট’। এর দোতলায় একটি ফোমের দোকানে বুধবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের দোকানগুলোতে। পুড়ে যায় দোতলার প্রায় ৮০ টির মত দোকান। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে আগুনের খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন ভয়াবহতা বিবেচনায় সেখানে আরও ১৪টি ইউনিট যোগ দেয়। পানি সরবরাহে ফায়ার সার্ভিসের রিজার্ভ ট্যাংক ছাড়াও সিটি করপোরেশনের গাড়ি সহযোগিতা করে। টিনশেড দেওয়া এতবড় একটি মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণ ছিল খুবই দুঃসাধ্য। তারপরও সবার সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে কোনো হতাহত ছাড়াই ৬টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।’

আগুন নিয়ন্ত্রণের পর দেবাশীষ বর্ধন আরও বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইউনিট এসে হাজির হয়। রাস্তা ফাঁকা থাকায় তা সম্ভব হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের ভলেন্টিয়ারদের সহায়তায় হাজার হাজার উৎসুক জনতাকে দ্রুত সরানোর কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়নি। তাছাড়া মার্কেটের চারদিকে প্রশস্ত সড়ক থাকায় সহজেই পানির গাড়ি ও ক্রেন প্রবেশ করানো গেছে এবং সহজেই তা কাজে লাগানো যায়। এতে চতুর্দিক পানি দেওয়ার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুলিশ যে কাজটি সহজ করে দিয়েছে তা হলো- শাপলা চত্বর থেকে টিকাতলী সড়ক, বঙ্গভবনের গেট থেকে টিকাতলী সড়ক ও সায়েদাবাদের সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া। এতে সড়কে ফায়ার, অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া আর কোনো গাড়ি ঢুকতে না পারায় ফায়ার কর্মীদের কাজ করতে সুবিধা হয়েছে। এমনকি সিটি করপোরেশনের পানির গাড়ি যাতায়াত করতেও সহজ হয়েছে।’

রাজধানী সুপার মার্কেটের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে র‌্যাব-৩ এর অফিস। মার্কেট এলাকার দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘মার্কেটটি টিন দিয়ে করা। আগুন কোনোভাবে দোতলা থেকে নিচতলায় আসলেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতো। তাছাড়া হতাহতের ঘটনাও ঘটতে পারত। চারদিকে রাস্তা আর গেট থাকায় এবং আগুন নিচে না আসায় সবাই বের হতে পেরেছে। দোতলায় বেশির ভাগ দোকান পুড়ে গেছে। ফোম, তুলা, প্লাস্টিক পণ্য থাকায় আগুনে পুড়ে তা থেমে গেছে। প্রায় দেড় হাজারের মত দোকানের ওপরের অংশেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।’

বিজ্ঞাপন

ওয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগের আগুনগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে আগেভাগেই সড়কে যান চলাচল বন্ধ করা হয়। উৎসুক জনতা কোনোভাবেই যাতে আগুন নেভাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সেজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। মার্কেটের কোটি কোটি টাকার মালামাল রক্ষার দায়িত্ব ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ।’

শাহজালাল তার ভাইয়ের দোকান ‘মায়ের দোয়া বেডিং কর্ণার’-এর আগুন নেভাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেও পারেননি। সব হারিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি ফোমের দোকান থেকে আগুন লাগে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার ওই দোকানে ১০/১২ লাখ টাকার নতুন কাপড় উঠিয়েছিলেন। যার সব পুড়ে গেছে।’

এদিকে সেই ফোমের দোকানের মালিক রাসেল মজুমদার বলেন, ‘নিচতলায় তাদের দোকান আর দোতলায় গুদামঘর। দোতলায় গুদামে মাল আনতে গিয়ে দেখতে পান পাশেই মজনু নামের একটি ছেলে ওয়েল্ডিং ব্যবহার করে দোকান মেরামত করছিলেন। দোকান খোলার পরপরই আগুনের ফুলকি গিয়ে ফোমে পরে এবং আগুন লেগে যায়। কোনো উপায় না দেখে তারা সেখান থেকে সরে যান।’

বিজ্ঞাপন

রাজধানী সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আফজাল হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘এই মার্কেটে মোট ১ হাজার ৭৮৮টি দোকান আছে। এর মধ্যে নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটে ২৮৮টি। বাকি দেড় হাজার দোকান রয়েছে রাজধানী সুপার মার্কেটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় ব্যবসায়ীরা শুকরিয়া আদায় করেছেন। নাহলে সব শেষ হয়ে যেতো। এরপরেও ৮০ টির মতো দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। শীত আসায় নতুন পোশাক তুলেছিল অনেকেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় রাজধানী সুপার মার্কেটের আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। একইভাবে অন্য জায়গায় আগুন লাগলেও যদি একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে আশানুরূপ সাফল্য আসবে।’

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন