রবিবার ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

টরন্টোতে পিঠা উৎসব ও পিঠা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নভেম্বর ২৯, ২০১৯ | ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

টরেন্টো: রয়েল কানাডিয়ান লিজিয়ন হল। তিল ধারণের জায়গা নেই। মানুষ আর মানুষ। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান জাতিগোষ্ঠীর নানান বয়সের দর্শক। সকলেই এসেছেন নাড়ির টানে- দেশীয় পিঠা খাওয়ার পাশাপাশি উৎসবের পর্বগুলো উপভোগ করবেন বলে। আনন্দ ভাগাভাগি করা বাঙালিদের ঐতিহ্য- সেটা আবারও প্রমাণিত হলো এ আয়োজনে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হলো ‘টরন্টো পিঠা উৎসব ও পিঠা প্রতিযোগিতা ২০১৯’। নগরীর রয়েল কানাডিয়ান লিজিয়ন হলে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন ডলি বেগম এমপিপি, কবি ইকবাল হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইকবাল রুশদ ও কানাডা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাঈনুল খান।

এদিন বিকেল ৫টায় কবি আসাদ চৌধুরী পিঠা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসবের আহ্বায়ক রিফফাত নওরিন।

বিজ্ঞাপন

এরপর শিপ্রা চৌধুরী পরিচালিত আনন্দধারার শিক্ষার্থীদের উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। পুঁথি পাঠ করেন হিমাদ্রী ও মুনিমা। কবিতা আবৃত্তি করেন হোসনে আর জেমি ও দিলারা নাহার বাবু। সংগীত পরিবেশন করেন- লাবণ্য তানজিলা, বীথিকা, মুক্তি প্রসাদ, ফারহানা জয়, শিরিন চৌধুরি ও নাফিয়া উর্মি। মনোমুগ্ধকর নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করে তাপস দে-র শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন তানভির, ফারহানা ও ফারিহা রহমান।

পিঠা প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন টরন্টোর বাঙালি গৃহিণীরা। নানান রঙের, নানান বর্ণের বাহারি পিঠা সাজিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তারা। এক পর্যায়ে মঞ্চে উঠে বিচারকদের দেওয়া পিঠা প্রতিযোগিতার রায় ঘোষণা করেন ‘দেশে বিদেশে’র সম্পাদক নজরুল মিন্টো।

পিঠা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন সায়কা সাইয়ারা সুপ্তি। তিনি পেয়েছেন ৯৬ পয়েন্ট। ৯৫ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন শায়লা রহমান ও তৃতীয় হয়েছেন লিনা ডি কষ্টা; তিনি পেয়েছেন ৮৭ পয়েন্ট। এছাড়া সেরা দশের মধ্যে যারা স্থান পেয়েছেন তারা হলেন- রুবি, সেলিনা নজরুল, ববিতা সেন, মৌসুমি, হৃদয়, রুনা বেগম ও গীতা পাল। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিজয়িনীদেরকে যথাক্রমে ৫০০ ডলার, ৩০০ ডলার ও ২০০ ডলার নগদ পুরস্কার দেওয়া হয়। বাকি সাতজনও পান বিভিন্ন পুরস্কার।

এবারের উৎসবে সুন্দর স্টলের জন্য প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন লিমা (টুনা-টুনির পিঠা), দ্বিতীয় হয়েছেন ফারিয়া আহমেদ (বাংলা কৃষ্টি) এবং তৃতীয় হয়েছেন শাহীন রেজওয়ান (হৃদয় হরণ)।

এছাড়া উৎসবের রাফেল ড্রতে পুরস্কার হিসেবে ৫০ ইঞ্চি টেলিভিশন দেওয়া হয়। সবশেষে সফল এ অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং উত্তরীয় পরিয়ে ‘দেশে বিদেশে’র পক্ষ থেকে সম্মানিত করা হয়। উদ্যোক্তারা জানান, পরবর্তী পিঠা উৎসব ও পিঠা প্রতিযোগিতা আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে ‘দেশে বিদেশে’ রাঁধুনি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এ পর্যন্ত দুটি রাঁধুনি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং উভয় প্রতিযোগিতায় নারীদের আশাব্যাঞ্জক অংশগ্রহণ ছিল। ২০২০ সালের ৩১ মে তৃতীয় রাঁধুনি প্রতিযোগিতা ও ১৮ অক্টোবর পিঠা উৎসব ও পিঠা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন