বুধবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

বাসচাপায় রাজীব-দিয়ার মৃত্যু: ৩ জনের যাবজ্জীবন, ২ জন খালাস

ডিসেম্বর ১, ২০১৯ | ৩:২৭ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী রাজীব ও দিয়ার বাসচাপায় মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুইজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জাবালে নূর পরিবহনের চালক মাসুম বিল্লাহ ও মো. জুবায়ের সুমন এবং বাসের হেলপার মো. আসাদ কাজী। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আসাদ কাজী পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আর খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- বাসমালিক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও চালকের সহকারী মো. এনায়েত হোসেন।

বিজ্ঞাপন

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু বলেন, ‘এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, কেউ এই ধরনের অপরাধ করে পার পাবেন না। কেউ এ ধরনের অন্যায়ের শিকার হলে আদালতে আসলে প্রতিকার পাবেন।’

রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবে কিনা?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা রায় পড়ব এবং বিশ্লেষণ করব। রায় পড়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তবে সার্বিকভাবে রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’

খালাাস পাওয়া বাসমালিক জাহাঙ্গীর আলমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম বলেন, `জাহাঙ্গীর আলম এই মামলায় জড়িত ছিলেন না। তিনি নির্দোষ। সাক্ষীদের কেউই জাহাঙ্গীর আলমের কথা বলেননি। এমনকি কোনো তদন্তেও আসেনি। আদালত সব শুনে তাকে খালাস দিয়েছেন।’

গত ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য রোববার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। এর আগে গত ৭ অক্টোবর কারাগারে থাকা চার আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলার আরেক আসামি জাবালে নূর পরিবহনের বাসমালিক মো. শাহাদৎ হোসেন আকন্দের মামলার অংশের কার্যক্রম হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। মামলায় ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত।

২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উত্তর ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম ঢাকা সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গত ২২ অক্টোবর চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। এরপর ২৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই দুপুরে কালশী ফ্লাইওভার থেকে নামার মুখে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিলেন। জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় মুখেই দাঁড়িয়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে একই পরিবহনের দ্রুতগতির আরেকটি বাস সামনের বাসটিকে ওভারটেক করে সামনে আসতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে বাসটির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) ও দিয়া খানম ওরফে মিম (১৬)। এ সময় আহত হন আরও নয়জন। ওই ঘটনায় ২৯ জুলাই দিবাগত রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম একটি মামলা দায়ের করেন।

সারাবাংলা/এআই/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন