বিজ্ঞাপন

ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ছেলে হারানোর অভিযোগ মায়ের

December 1, 2019 | 4:05 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের বেসরকারি ‘ম্যাক্স হাসপাতাল’-এর ভুল চিকিৎসায় এক বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর অভিযোগ এনেছেন লেখিকা ও ব্যাংক কর্মকর্তা মোহছেনা আক্তার ঝর্ণা। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। এতে বলা হয়েছে, ম্যাক্স হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা, গাফিলতি এবং নার্সদের অবহেলায় তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন মোহছেনা আক্তার ঝর্ণা। অভিযোগে তিনি ম্যাক্স হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে এর প্রতিকার চেয়েছেন, যাতে আর কোনো পিতামাতা সন্তানহারা না হন।

নগরীর লালখান বাজারের চানমারী রোডের বাসিন্দা শামীম সারোয়ার ও অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহছেনা আক্তার ঝর্ণা দম্পতির এক মেয়ে ও এক ছেলে ছিল। মেয়ে বড়। ছেলে জিহান সারোয়ার প্রিয়’র বয়স ছিল এক বছর ২৪ দিন।

বিজ্ঞাপন

গত ২১ নভেম্বর সকালে নগরীর মেহেদিবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিহান সারোয়ার প্রিয়’র মৃত্যু হয়। তখন ঝর্ণা অভিযোগ করেছিলেন, তার ছেলে খেলছিল। একটি ইনজেকশন পুশ করার আধাঘণ্টার মধ্যে ছেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

মোহছেনা আক্তার ঝর্ণা সিভিল সার্জন বরাবরে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১৭ নভেম্বর তার সন্তান জিহান সারোয়ার প্রিয় অসুস্থ বোধ করলে তাকে বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির পর অনকলে চিকিৎসক সনৎ কুমার বড়ুয়াকে দেখালে তিনি ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন।

বিজ্ঞাপন

এরপরই ম্যাক্স হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মুখে অসহায় হয়ে পড়ার কথা জানিয়ে ঝর্ণা বলেন, ‘এনআইসিইউ’র মত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাদের কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স নেই। গত ২১ নভেম্বর দুপুরে আমার সন্তানকে মেশিনের মাধ্যমে ধীরে ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও অনভিজ্ঞ নার্স ওই ওষুধের শেষের অংশ হাত দিয়ে পুশ করেন। আর তখনই আমার সন্তান পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয়।’

ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার চারদিনের প্রায় সময়ই নার্স, আয়া ও চিকিৎসকদের অবহেলার স্বীকার হয়েছেন উল্লেখ করে ঝর্ণা বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে দিতে পারেনি। অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ নার্সরা ডিউটিতে রাতে ঘুমিয়ে থাকে। তাদের ডাকলে উল্টো বকা শুনতে হয়।’

বিজ্ঞাপন

এছাড়া তার সন্তানের বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের দেখতে দেয়নি দাবি করেন তিনি।

ঝর্ণা বলেন, ‘আমার সন্তানের চিকিৎসার বিস্তারিত তারা আমাদের দেয়নি। তারা যে ওষুধ আমার সন্তানকে দিয়েছে তার মেয়াদ ছিল কি না তাও আমরা জানি না।’

বিজ্ঞাপন

তার অভিযোগ, ‘ম্যাক্স হাসপাতাল শুধু তাদের ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি পূর্ণ করে চলেছে। রোগীদের সুচিকিৎসা প্রদানে তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।’ সন্তানের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন এবং ম্যাক্স হাসপাতালের প্রতিটি অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহছেনা আক্তার ঝর্ণা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি চাই, আমার সন্তানের মৃত্যু কেন হল, ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে সেটা জানাক। ডাক্তারের কোনো ভুল ছিল কি না, নার্সদের কোনো ভুল ছিল কি না, তারা সেটা আমাকে জানাক। আমি চাই, তারা সত্যটা স্বীকার করুক। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশোধন হোক। ভবিষ্যতে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সচেতন থাকুক, আমার চাওয়া এতটুকুই। আমার যে ক্ষতি হয়ে গেছে, সেটা পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। আমি চাই, আমার মতো আরও কারও যেন ক্ষতি না হয়। কোনো পিতামাতা যেন আমার মতো সন্তানহারা না হয়।’

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ মুহাম্মদ ফজলে রাব্বি অভিযোগ পাবার কথা জানিয়ে সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হচ্ছে। আমরা তিনজন তদন্তের দায়িত্বে থাকব। একজন সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। ৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রোগ্রাম আছে। এর পরই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করব। এর আগে পত্রিকায় সংবাদ দেখেও আমরা তিন সদস্যের একটা তদন্ত কমিটি করেছিলাম। সেটা যে কোনো কারণে কার্যকর নেই। এখন যেহেতু অভিযোগ পেয়েছি, নতুন করে তদন্ত শুরু হবে।’

তিনি বলেন, তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি কিংবা ডাক্তারের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি বা অবহেলা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘তদন্ত হোক। তদন্ত হলে কোনো সন্দেহ থাকলে সেটা দূর হবে।’

একবছর আগে একই হাসপাতালে জ্বর ও গলাব্যাথা নিয়ে ভর্তি হওয়া সাংবাদিক রুবেল খানের শিশুকন্যা রাফিদা আক্তার রাইফা’র মৃত্যু হয়। তখন ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দায়ী চিকিৎসকদের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টিম হাসপাতালে অভিযানও চালিয়েছিল।

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন