সোমবার ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

মুজিববর্ষের কাউন্টডাউনে সম্মেলন সজ্জায় স্যাক্রিফাইস আ.লীগের

ডিসেম্বর ১, ২০১৯ | ১০:২৮ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মুজিববর্ষের কাউন্টডাউন শুরুর কারণে ২১তম ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে সাদামাটা সাজসজ্জায় সম্মেলন সম্পন্ন করবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এবারের জাতীয় সম্মেলন গতবারের মতো না হলেও কেবল সাজসজ্জা ও আলোর ঝলকানি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে সাদামাটা সজ্জায় সম্মেলন আয়োজন করবে দলটি। ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করে আগামী ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই চার দিন সম্মেলনস্থল সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

গত ২০তম জাতীয় সম্মেলনে দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জায় নজির স্থাপন করে ক্ষমতাসীন দলটি। কিন্তু এবার কেবল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনে দলীয় প্রতীক নৌকার আদলে বিশাল মূলমঞ্চ এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্রায়নের পাশাপাশি দলীয় বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টার-বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জায় সীমিত থাকছে। ২১তম জাতীয় সম্মেলনের মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপ-কমিটির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর ২০১৬ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে দলের ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন হবে এবং ২১ ডিসেম্বর সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে কাউন্সিল অধিবেশন হবে।

১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে জন্ম নেয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরে ১৯৫৫ সালের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সকল ধর্ম-বর্ণের প্রতিনিধি হিসেবে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয় আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে। এ ছাড়া সাতটি বিশেষ কাউন্সিল হয়েছে। সর্বপ্রথম বিশেষ জাতীয় সম্মেলন হয় ১৯৫৩ সালে। পাকিস্তান আমলেও আরও তিনটি বিশেষ সম্মেলন হয়। বাংলাদেশ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের তিনটি বিশেষ সম্মেলন হয়। এরমধ্যে একটি হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়া সরকারের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর। আর বাকি দুটি হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন আদায় এবং সবশেষ বিশেষ সম্মেলন হয় জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে।

বিজ্ঞাপন

মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির নেতারা জানান, এবার সম্মেলন ২০তম সম্মেলনের মতো গোটা রাজধানীজুড়ে ব্যাপক আলোর ঝলকানি বা উৎসবমুখর ও জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা না থাকলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সম্মেলনস্থলে সাদামাটা আয়োজনেও থাকবে নজরকাড়া সজ্জা। দলীয় প্রতীক নৌকার আদলে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হবে। সম্মেলনকে বর্ণিল সাজে সাজাতে মূল উপকরণ হিসেবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্রায়ণের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাসহ জাতীয় চার নেতাদের ছবি সংবলিত বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টার ও বিলবোর্ডে সজ্জিত করা হবে। এবার কেবল সাজ-সজ্জার দৃষ্টিনর্দন কর্মযজ্ঞ সীমাবদ্ধ থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে।

এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেকের পাশে বিশাল নৌকা আকৃতির মঞ্চ তৈরি করা হবে। উদ্যানে প্রবেশের গেটে তৈরি করা হবে বড় বড় তোরণ। গত নভম্বের মাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে মঞ্চে চারটি সংগঠনের সম্মেলন ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই মূল মঞ্চটি ভেঙে ফেলে নতুন করে নৌকাসদৃশ বিশাল আকৃতির মঞ্চ তৈরি করা হবে। মঞ্চের সামনে মূল প্যান্ডেলের পরিসরও বৃদ্ধি করা হবে।

এদিকে রোববার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপ-কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এবারকার কাউন্সিল আমরা সাদামাটা অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে শেষ করবো। কারণ আমাদের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছি। মুজিববর্ষ সরকারিভাবেও হবে এবং দলীয়ভাবেও মুজিব বর্ষ উদযাপন করবো।

জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা এবার আমাদের জাতীয় সম্মেলনে সাজসজ্জায় যাচ্ছি না। যতটা না হলে নয়, ঠিক ততটাই করবো। আমাদের মুজিববর্ষ ডিসেম্বরের ৮ তারিখ থেকে কাউন্টডাউন শুরু হবে। কাজেই সেদিকে আমাদের নজর থাকবে। মনোযোগ থাকবে। সে জন্য আমরা সাজসজ্জার দিকে না গিয়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার সৌন্দর্য ও শৃংখলা বৃদ্ধির জন্য আমাদের কর্মতৎপরতা বজায় থাকবে। সে লক্ষ্যেই আমরা আমাদের নেত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে তারা ডিজাইন করে ফেলেছেন এবং প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। আগামীকাল থেকে রিয়েলি গ্রান্ড ওয়ার্কিং-এর কাজ শুরু হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপ-কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আগামী ৮ ডিসম্বের থেকে মুজিব বর্ষের কাউন্টডাউন শুরু হবে। সেজন্য এবার আমাদের জাতীয় সম্মেলনে আমরা কেবল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই সম্মেলন সাজসজ্জা সীমাবদ্ধ থাকবে।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও মঞ্চ ও সাজ সজ্জা উপ-কমিটির সদস্য সচিব মির্জা আজম বলেন, ‘আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের কাউন্টডাউন শুরু হবে। সেই উপলক্ষে শুধু ঢাকা শহর নয় সারাদেশে বিভিন্ন সাজসজ্জা করা হবে। যার কারণে আমরা আমাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিতরের অংশ, যে কয়টা গেট এবং ভিতরে যে ধরনের সাজসজ্জা করেই আমরা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি, সেটা করা হবে।’

মির্জা আজম আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রাথমিক যে ডিজাইন, সেই ডিজাইন হাতে পেয়েছি। প্যান্ডেলের ভিতরের কিছু সাজসজ্জা হয় সেগুলোর ডিজাইন আমরা পেয়েছি। আমরা সুন্দরভাবেই সবকিছু সাজাব। ২০ তারিখে আমাদের সম্মেলন। মঞ্চ, সাজসজ্জা এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিতরে সমস্ত সাজসজ্জার কাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করবো। আগামী ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ ডিসেম্বর; এই চারদিন এটা উন্মুক্ত থাকবে মানুষের দেখার জন্য।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন