সোমবার ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ঠিকানা পায়নি কাউন্টার টেরোরিজম, গ্রেফতার করলো পিবিআই

ডিসেম্বর ২, ২০১৯ | ৭:০৫ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে পিকনিক বাস থেকে আড়াই লাখ ইয়াবা উদ্ধারের মামলার পুনঃতদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার প্রথম দফা তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ার অজুহাতে ইয়াবা চালানের মূল সরবরাহকারী আবুল কাশেম শাহীনকে বাদ দেওয়ার আবেদন করেছিল সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তবে আদালতের নির্দেশে পুনঃতদন্তে নেমে পিবিআই কক্সবাজার থেকে সেই ‘ইয়াবা গডফাদার’ শাহীনকে গ্রেফতার করেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ঈদগড় বাজার থেকে শাহীনকে গ্রেফতার করে পিবিআই। গ্রেফতার শাহীন রামু উপজেলার কাটা জঙ্গল গ্রামের মৃত নবী হোসেনের ছেলে।

জানা যায়, যশোর থেকে যাওয়া একটি পিকনিকের বাস কক্সবাজার থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ফেরার পথে নগরীর শাহ আমানত সেতু এলাকায় সেটিতে তল্লাশি চালায় র‌্যাব। অভিযানে আড়াই লাখ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয় ৬ জনকে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবাগুলোর যোগানদাতা হিসেবে কাশেম ও রাজু নামে দুইজনের নাম পায় র‌্যাব। তাদেরসহ আটজনের নামে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। শুরুতে বাকলিয়া থানা মামলা তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার যায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কাছে।

পিবিআই সূত্র জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে তদন্তে পাওয়া এক আসামি গিয়াস উদ্দিন সিকদারসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এজাহারভুক্ত আসামি মাসুদ রানা, কাশেম ও রাজুকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়- ইয়াবা পাচারে মাসুদ রানার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। রাজু নামে কোন আসামিরই হদিস পাওয়া যায়নি। আবুল কাশেম শাহীনের সম্পৃক্ততা পেলেও পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এজন্য তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়।

পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। আমরা তদন্তে নেমে গত ১১ সেপ্টেম্বর এজাহারভুক্ত আসামি দেলোয়ার হোসেন রাজুকে গ্রেফতার করি। এরপর সোমবার আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করা হয়।’

মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুই আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান পিবিআই কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন।

বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগরের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবীর। তিনি জানান, আবুল কাশেম শাহীনের পরিবার মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৩ সালে বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। এসময় ডাকাতদলের সঙ্গে ভেড়ে শাহীন। একপর্যায়ে হত্যা-সন্ত্রাসেও জড়িয়ে পড়েন। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে নববিবাহিত স্ত্রীর সামনে ঈদগড় বড়বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নুরুচ্ছফাকে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে সে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন