রবিবার ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘কিছু পুলিশ সদস্য মনে করে দুর্নীতি করলে কিছু হবে না’

ডিসেম্বর ২, ২০১৯ | ১০:২৮ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘কতিপয় পুলিশ সদস্য দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ওইসব পুলিশ সদস্যরা মনে করে- তারা দুর্নীতি করলে তাদের কিছু হবে না। যদিও এদের সংখ্যা কোনোভাবেই পাঁচ শতাংশের বেশি হবে না।’— এমন মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ডিসেম্বর) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এ সময় আদালত উত্তরা (পূর্ব) থানার এএসআই মোস্তাফিজুর রহমানসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার অভিযোগ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজি) নির্দেশ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে পুলিশ প্রধানের কাছে করা আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখার কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল ও এক নারী কর্মকর্তার করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেন আদালত। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও ইসমাইল হোসেন ভূঁইয়া।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। পুলিশ দুর্নীতি করলে কিছুই হয় না। দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।’

অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৭ জুন রাত ১১টার সময় মতিঝিল শাখার সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল তার এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে উত্তরার ভূতের আড্ডা রেস্টুরেন্ট থেকে রাতের খাবার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন সময় নেমপ্লেট ছাড়া এক পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিম খলিলকে উত্তরা পূর্ব থানার এএসআই মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে নিয়ে যান। ওই পুলিশ কর্মকর্তা ইব্রাহিমকে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় ইব্রাহিম আঘাতপ্রাপ্ত হন।

পরে এএসআই মোস্তাফিজ ২০ হাজার টাকা দাবি করে ইব্রাহিমের কাছে। তবে ইব্রাহিম ৬ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পান। পরবর্তীতে বাকি ১৪ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন এই বলে ইব্রাহিম কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এর কিছুদিন পর পুলিশের ওই এএসআই ইব্রাহিমের নারী কলিগকে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে বলেন এবং দেখা করলে অবশিষ্ট ১৪ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে না বলে জানান।

এরপর এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিএমপি কমিশনার ও পুলিশের আইজি বরাবর অভিযোগ করেন ইব্রাহিম। একইসঙ্গে নারী কলিগের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার কলরেকর্ডিং, মেডিকেল সার্টিফিকেটও দাখিল করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ২৫ জুলাই ইব্রাহিম হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এজেডকে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন