রবিবার ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

বিমানে এসেছে ৬১২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, কেজিতে খরচ ২৫০ টাকা

ডিসেম্বর ৩, ২০১৯ | ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ

শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কমছেই না পেঁয়াজের ঝাঁজ। আর এই ঝাঁজ কমাতে সরকার মিশর, তুরস্ক এবং পাকিস্তান থেকে বিমানে করে এনেছে রোববার (১ ডিসেম্বর) পর্যন্ত এনেছে ৬১২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। তবে এতেও বাজারে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। আকাশ পথে আনা পেঁয়াজের কেজি প্রতি খরচ পড়েছে ২৫০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বিমান বাংলাদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, আকাশ পথে আনা পেঁয়াজে কেজি প্রতি খরচ পড়েছে ২৫০ টাকা হলেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে টিসিবির মাধ্যমে তা ৪৫ টাকা দরে কেজি প্রতি বিক্রি করছে। তবে এতে বাজারে কোনো প্রভাবই পড়ছে না, দাম আগের মতোই ঊর্ধ্বমুখী। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে ফেব্রুয়ারির আগে আসবে না।

আকাশ পথে রোববার পর্যন্ত এসেছে পেঁয়াজের ১৮টি চালান। শুধু হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে ৬১২.৬৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে। আর এই পেঁয়াজ পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক থেকে আমদানি করা হয়েছে। যার মধ্যে ২০ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে স্বাদ ইন্টারন্যাশনাল (পেঁয়াজ আমদানিকারক) ২টি চালানে এনেছে ৮১.৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। ২১ নভেম্বর মিশর থেকে সোনালী ট্রেডার্স আমদানি করেছে ৭.০৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। একই দিনে তুরস্ক থেকে এম হাসান অ্যান্ড কোং আমদানি করেছে ১০.৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। ২২ নভেম্বর তুরস্ক থেকে কামাল ট্রেডিং লিমিটেড আমদানি করেছে ১০.৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। একই দিনে মিশর থেকে ২টি চালানে সোনালী ট্রেডার্স আমদানি করেছে ১০৯.৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ২৩ নভেম্বর মিশর থেকে সোনালী ট্রেডার্স ১টি চালানে আমদানি করেছে ৫৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, ২৬ নভেম্বর তুরস্ক থেকে এম হাসান এন্ড কোং ১টি চালানে আমদানি করেছে ১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, একই দিনে তুরস্ক থেকে কামাল ট্রেডিং কোং লিমিটেড ১টি চালানে আমদানি করেছে ১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, একই দিনে মিশর থেকে সোনালী ট্রেডার্স ২টি চালানে আমদানি করেছে ১০৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, ২৭ নভেম্বর মিশর থেকে ১টি চালানে সোনালী ট্রেডার্স আমদানি করেছে ১০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, ২৮ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে স্বাদ ইন্টারন্যাশনাল ২টি চালানে আমদানি করেছে ৪৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, একই দিনে মিশর থেকে সোনালী ট্রেডার্স ১টি চালানে আমদানি করেছে ১০৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আর ২৯ নভেম্বর ২টি চালানে পাকিস্তান থেকে স্বাদ ইন্টারন্যাশনাল আমদানি করেছে ৫২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।

সবমিলিয়ে ১৮টি চালানে আকাশ পথে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ৬১২.৬৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।

এবারই প্রথমবার সরকার বিপাকে পড়ে ভর্তুকি দিয়ে আকাশ পথে পেঁয়াজ আমদানি করেছে। আর এই পেঁয়াজে আমদানিতে বিমান তাদের চার্জ মওকুফ করেছে। মূলত দেশের নাগরিকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার তড়িৎ গতিতে পেঁয়াজ আমদানি করার ঘোষণা দেয়।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিদেশ থেকে ৬১২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে। কাস্টমসের পক্ষ থেকে যতো সহযোগিতা করা যায় আমরা সেটা করেছি। সামনে বিমানে যত পেঁয়াজ আসবে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

শ্যামবাজারের পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শামস কুদ্দুস সারাবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার শ্যামবাজারে পাইকারিতে চায়না পেঁয়াজ কেজি ১১০ টাকা, মিশর ১৩০-১৩৫ টাকা, তুরস্ক পেঁয়াজ ১১০ টাকা, বার্মা পেঁয়াজ ১৭৫-১৯০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ পুরান ১৮০-১৯০ টাকা, নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১৪০-১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজের দাম কমতে এখনও সময় লাগবে। সোমবার শ্যামবাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১৮ মেট্রিক টন এসেছে। ক্রমশ এখন নতুন পেঁয়াজ আসতে থাকবে। ফলে দামও কমে যাবে।’

শ্যামবাজারের পেঁয়াজ আমদানিকারক হাফিজ সারাবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার চায়না পেঁয়াজ লাল ১১০ টাকা আর সাদা ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য পেঁয়াজ আগের দামেই বিক্রি হয়েছ। রোববার বাজারে মালই ছিল না। দাম ডিসেম্বরের ১৫-২০ তারিখে একটু কমবে। তবে পেঁয়াজের দাম সহনীয় মাত্রায় আসতে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় লেগে যাবে। কেননা নদী পথে পেঁয়াজ আসতে সময় লাগছে। আর নতুন পেঁয়াজ সবে আসা শুরু হয়েছে। ফলে সহসা দাম সহনীয় মাত্রায় আসছে না।’

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব মতে দেশে প্রতিদিন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টন। এ হিসেবে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন। আর প্রতি বছর পেঁয়াজ আমদানি করতে হয় ৭-৯ লাখ টন। আর সেই আমদানির ৯০ ভাগই ভারত থেকে আমদানি করা হতো। কিন্তু হঠাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। আর তখনই লাফিয়ে লাফিয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। যার দাম ৩০০টাকা কেজিতে গিয়ে পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসজে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন