বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ ১ সেকেন্ডের বিষয়: টিপু মুনশি

December 3, 2019 | 2:44 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পেঁয়াজের দাম নিয়ে আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক টিপু মুনশি জানিয়েছেন, দাম বাড়ার কারণে তার পদত্যাগ মাত্র এক সেকেন্ডের বিষয়। তবে তাতে কি পেঁয়াজের দাম কমবে বলেও পাল্টা প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেলের হলরুমে ‘নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যেও ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে ব্যবসায়ী সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ কমিটি এই সভার আয়োজন করে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে বিভিন্ন মহল থেকে বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ও তা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের প্রসঙ্গ উঠে এলে মন্ত্রী তার প্রতিক্রিয়ায় একথা জানান।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যবসাবান্ধব লোক। আমাকে বহুবার বলা হয়েছে, জেলে দেন। আমি বলেছি, কাকে জেলে দেব? আর কোথায় দেখছি যে, বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। এক সেকেন্ডও লাগবে না, আমার পদত্যাগ করতে। কোনো সমস্যা নাই আমার। তখন দেশের সবকিছু যদি, পেঁয়াজের দাম ঠিক হয়ে যেত। আমার তো কিছু যায় আসে না। এই মন্ত্রিত্ব জব করার জন্য, কাজ করার জন্য।’

‘আমি ব্যবসা করি ৪৭ বছর ধরে, আমি ১৯৭২ সালে ব্যবসা শুরু করি। আর রাজনীতি শুরু করি তার থেকে ৫/৬ বছর আগে। ১৯৬৬ সালে ছাত্রলীগ দিয়ে শুরু করি। কাজেই রাজনীতিতে ৫৩ বছর হয়ে গেছে। আর বলে রাখি নিজের কথা, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানও। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা। আমি এবং আমার বাবা দুই জন একসাথেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম’, বলেন মন্ত্রী।

পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি পর্যালোচনা করি তাহলে আমরা দেখব, গত তিন চার বছরে পিঁয়াজের ইমপোর্ট কি? আমাদের কনজাম্পজন কি? সেই হিসাবটা যদি আমরা ধরি, প্রতি বছর আমাদের ইমপোর্ট ২৫ হাজার টন করে বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের রেট বাড়ছে, কনজাম্পশন বাড়ছে ব্যবহার বাড়ছে। বলা হয়, ২৩/২৪ লাখ টন আমাদের নিজস্ব প্রডাকশন, কৃষি মন্ত্রণালয় আমাদের জানায়। আমাদের কনজাম্পশনও কিন্তু ২৪-২৫ লাখ টন। তাহলে ডিফারেন্সটা কি? দুই এক লাখ টন শর্ট হয়ে থাকার কথা। কিন্তু আপনারা জানেন, এই পেঁয়াজের এটলিস্ট ২ থেকে ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়।’

পেঁয়াজ আমদানির সমস্তটাই অলমোস্ট ৯০ শতাংশ ডিফেন্ডড করতে ভারতের ওপর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অক্টোবরের দিকে ভারত এক লাফে পেঁয়াজের টন সাড়ে আটশ ডলার করে দেয়। আমরা মনে করলাম, এই বৃদ্ধিটা সাময়িক। কিন্তু তারা দাম বাড়িয়েই শান্ত হলো না, ২৯ সেপ্টেম্বর তারা ডিক্লেয়ার করল যে, আমরা পেঁয়াজ বাংলাদেশে এক্সপোর্ট বন্ধ করে দেব। আমি রাজনীতিবিদের পরে ব্যবসায়ী। প্রতিটা মুহূর্ত আমি চেষ্টা করেছি। সমস্যা হয়েছে এখানে আমাদের গত এই ৫ দিন ধরে বা ছয় দিন ধরে ইজিপ্ট এবং টার্কিস থেকে মাল আসতে শুরু করেছে। আমাদের কথা দিয়েছে সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ। আমরা ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন মাল আপনাদের দেব এবং সবচেয়ে আনন্দের কথা, রিয়েলি অ্যাপ্রিশিয়েট করি ব্যবসায়ী হিসাবে। তারা বলেছে, আমরা এক টাকা প্রফিট করবো না। যত কোটি টাকা লাগে আমরা ইনভেস্ট করবো এবং এক টাকা প্রফিট করবো না।’

“গত তিন দিন ধরে যে পিঁয়াজ তারা আমাদের দিয়েছে সেটা সব মূল্যে খরচ পড়েছে সাড়ে ৪২ টাকা এবং সেই দামেই তারা আমাদের দিয়েছে। আমি বলেছি আপনারা প্রফিট করেন। ৫ টাকা প্রফিট করেন, তিন টাকা প্রফিট করেন। তারা আমাদের না করেছে, বলেছে, ‘আমরা প্রমিজ করেছি আপনাকে, আমরা এক টাকাও প্রফিট করবো না’।”

ব্যবসায়ী ও ইমপোর্টারদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সিটি গ্রুপ, বা মেঘনা যারা কস্ট প্রাইজে দিচ্ছে তার বাইরেও কিছু কিছু পেঁয়াজ কিন্তু চিটাগাং বন্দর দিয়ে ঢুকছে। তাদের খরচ কোনো অবস্থাতেই কিন্তু ৪৪ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তারা তো বিক্রি করছে বেশি দামে। তাহলে সেই মানবিক মূল্যবোধটা কোথায়। তারা যদি বলত আমাদের খরচ ৪০ টাকা, আমরা ৫০ টাকা হলে টু মাচ হ্যাপি। কিন্তু সেই মূল্যবোধ কাজ করে না। একটাই পথ হলো আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ ইমপোর্ট করা। এই ধরনের মুনাফালোভী যারা দুর্ভিক্ষের সামনেও, ক্রাইসিসের সামনেও নিজের মূল্যবোধকে জাগ্রত করে না, তাদের কিন্তু ব্যবসায়ী হওয়ার কথা নয়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘পেঁয়াজের বাজারের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটা দিন, প্রতিটা ঘণ্টা ধরে ফলোআপ করে রেখেছি। আমাদের সেলফ সাফিশিয়েন্ট হতে হবে। সেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আমার পেঁয়াজ নিয়ে কথা হচ্ছিল, ভারতের হাইকমিশনারও ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আমাদের যেভাবে হোক সেলফ সাফিশিয়েন্ট হতেই হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি যে, পেঁয়াজ এবার যখন উঠবে আমি ইমপোর্ট বন্ধ করে দেব। আমার উৎপাদনকারীদের পেতে হবে। যদি তারা দাম পায় কারও দরকার হবে না। যে ২৫ শতাংশ শর্ট কল আছে তারা কাভার করে দেবে।’

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ক্রাইসিস আমাদের আছে। আল্লাহর ওয়াস্তে, ইথিকাল প্রফিটটা করেন, লজিক্যাল প্রফিটটা করেন। আমাদের ক্রাইসিস যাচ্ছে। এই ক্রাইসিস আমাদের সারাজীবন থাকবে না। আমাদের একটা শিক্ষা হয়েছে। রাজা রামমোহনের একটা উক্তি আছে। কখনো কখনো বিপদ সম্পদে রূপান্তরিত হয় (সাম ক্রাইসিস)। এই ক্রাইসিস আমরা ফেস করবো। ইনশাল্লাহ, আমরা ওভারকামও করব।’

‘আমি গতকালকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দরকার পড়লে আমি টিসিবি দিয়ে ১ লক্ষ টন আগামী ৪০ দিনের মধ্যে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মাকের্টে দিব। আমি উইল ফেইস ইট। একটু কষ্ট করতে হবে। আমরা এই বিপদটাকে সম্পদে পরিণত করবই করবো। খুব বেশি দিন লাগবে না। আমরা আমাদের দেশ এই প্রোডাকশনে সেলফ সাফিশিয়েন্ট হবোই হব।”

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট উপ-কমিটির আহ্বায়ক কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাণিজ্য সম্পাদক আবদুস সাত্তারসহ অনেকে।

সারাবাংলা/এনআর/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন