বুধবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

চবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা

ডিসেম্বর ৪, ২০১৯ | ৩:০৭ অপরাহ্ণ

চবি করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক দুটি গ্রুপ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে হাটহাজারি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ আলম সারাবাংলাকে দুটি মামলা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উভয়পক্ষ মামলা করেছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগিভিত্তিক চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি) গ্রুপের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের নাছির উদ্দিন সুমন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- ইংরেজি বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের মিজানুর রহমান বিপুল, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের সাদেক হোসেন টিপু, একই শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের নাজমুল সামির, চারুকলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের আনোয়ার হোসেন শুভ, একই শিক্ষাবর্ষের রায়হান রেজা, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের আশিকুর রহমান রনি ও শামিম আজম, লোকপ্রশাসন বিভাগের এরদোগান আলী, ইতিহাস বিভাগের এমাদ উদ্দিন, সংস্কৃত বিভাগের হামিদ খান ও আল ফয়সাল খান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মাসুদ রানা, একই শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের আই কে শাকিল ও ইমরান বিন হোসাইন ইমু, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সালাউদ্দিন কাদের রনি, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের আল আমিন শান্ত, একই শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের জোবায়ের বিন হাসান ও শিহাব তামিম, ইতিহাস বিভাগের মনছুর আবেদীন এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের কায়সার মাহমুদ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বগিভিত্তিক ভিএক্স গ্রুপের জাহিদ হাসান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের আবদুল্লাহ আল নাহিয়ান রাফি, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের সুমন নাছির, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আশরাফুল আলম, একই শিক্ষাবর্ষের মো. আরিফ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ফখরুল ইসলাম, একই শিক্ষাবর্ষের সাফায়েত হোসেন, ইইই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মো. শাফি, একই শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস বিভাগের অভি, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. সৈকত, একই শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের আরিফ আকন্দ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মো. শান্ত, একই শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের মো. শাওন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তানজিল আহমেদ, ফারসি বিভাগের হৃদয় বর্মণ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অর্ক। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) গ্রুপের নেতা ও চবি ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে। সেটার সম্পর্কে আমরা সম্পৃক্ততা না। সেটা তাদের এলাকাবাসীর সঙ্গে ঝামেলা। এই ঝামেলার সঙ্গে যারা জড়িত পুলিশ তদন্ত করে তাদের বের করবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাই না। কিন্তু বারবার রেজাউল হক রুবেলের নেতৃত্বে ও কিছু শিক্ষকের মদদে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য এই ঝামেলা করছে।’

চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা অস্ত্রবাজি করবে, মারামারি করবে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ জানানো হয়েছে। দীর্ঘদির ধরে এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বিগত দিনে যেসব ঘটনা ঘটেছে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করা উচিৎ।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুর রব হলের টেলিভিশন রুমে মিটিং করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাতেই এ নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন।

এরপর গত ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাটহাজারী থানার এগার মাইল এলাকায় সিএফসি গ্রুপের নেতা নাসির উদ্দিন সুমন ও আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান রাফিকে এলোপাথাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়। এই ঘটনার জন্য সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীদের দায়ী করে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকাল অবরোধের ডাক দেয়। তবে বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের চট্টগ্রামে সফর উপলক্ষে এই কর্মসূচি তিনদিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে।

সারাবাংলা/সিসি/এমআই

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন