শুক্রবার ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৮ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভুলে ২৬ দিন কারাভোগ, আদালতে ক্ষমা চাইলেন এসআই মামুন

ডিসেম্বর ৪, ২০১৯ | ৭:০৩ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নামের মিল থাকায় গ্রেফতার হয়ে ২৬ দিন কারাভোগ করতে হয় মো. রাজন ভূঁইয়াকে। গত ১১ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে ওই ব্যক্তি নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে এক টাকা মুচলেকায় কারামুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে নির্দোষ রাজন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা ব্রাক্ষণপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন অর রশিদের বিরুদ্ধে কেন শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য আদালত নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকার এক নম্বর দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতে বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে সেই এসআই হাজির হয়ে লিখিত জবাব দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানি শেষে এসআই মামুনকে সতর্ক করার পাশাপাশি তারে ভুলের জন্য ক্ষমা করেন।

কারণ দর্শানোর আবেদনে বলা হয়, আমি বিজ্ঞ আদালতে পরোয়ানা মূলে সরল বিশ্বাসে গ্রেফতার করে আসামিকে আদালতে পাঠাই। আসামিকে গ্রেফতার করার সময় নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য জন্মসনদ, জাতীয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া গ্রাম-পুলিশ ও ইউপি মেম্বর গ্রেফতার আসামিকে হাবিবুল্লাহ রাজন নামে চিহ্নিত করে। আমি সরল বিশ্বাসে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ পালন করেছি মাত্র।

এদিন এ মামলার মূল আসামি হাবিবুল্লাহ রাজন ভূঁইয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভুলে বিনা অপরাধে ২৬ দিন কারাভোগ করা ব্যক্তি হলেন মো. রাজন ভূঁইয়া। তিনি কুমিল্লার গোপালনগর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে। গত ১৬ অক্টোবর নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর গত ১১ নভেম্বর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ থেকে এক টাকার মুচলেকায় কারামুক্তির আদেশ পান তিনি।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৯ মে রাজধানীর বংশাল থানার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে ২৮ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ হাবিবুল্লাহ রাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই বছরের ১ জুলাই মামলায় চার্জশিট দাখিলের পর বিচারিক আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর থেকেই হাবিবুল্লাহ রাজন পলাতক ছিলেন।

২০১৩ সালের ৬ জুন হাবিবুল্লাহ রাজনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরতে না পারায় ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফের তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালত।

ওই পরোয়ানা পেয়েই ব্রাক্ষণপাড়া থানার এসআই মামুনুর রশিদ ভুল আসামি মো. রাজন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করেন। দোষ না করেও রাজনকে ২৬ দিন কারাগারে থাকতে হয়।

ওই মাদক মামলার মূল আসামি হাবিবুল্লাহ রাজন গত ৭ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এসেছিলেন। কিন্তু ওইসময় ভুল আসামি রাজন ভূঁইয়া কারাগারে থাকায় আদালত তার আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেননি।

বিজ্ঞাপন

সারবাংলা/এআই/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন