বিজ্ঞাপন

‘দুঃসময়ে তৃণমূলের কর্মীরাই আ.লীগের হাল ধরে রেখেছে’

December 4, 2019 | 10:58 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দলের যেকোনো দুঃসময়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে হাল ধরে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যখনই দুঃসময় এসেছে, আমাদের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সংগঠনকে ধরে রেখেছে। নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা এই দলটাকে শক্ত করে ধরে রেখেছেন, এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির এক সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

২০তম জাতীয় সম্মেলনের তিন বছর পর অবশেষে ২১তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের এই জাতীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিবছর জাতীয় কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও গত তিন বছরে একবারও এই বৈঠক আহ্বান করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাক, তা দেশি-বিদেশি স্বাধীনতাবিরোধীরা কখনো চায়নি এবং নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে এসেছে। যে কারণে বাংলাদেশ যখনই সুষ্ঠুভাবে চলতে শুরু করেছে, তখনই এলো ১৫ অগাস্ট। ১৫ আগস্ট যে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন, সেটা খুনি রশিদ ও ফারুকের বক্তব্যেই প্রমাণিত।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালে যখন আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে, দেশে ফিরে আসি। তখন থেকে একটা প্রচেষ্টা ছিল আমরা কিভাবে বাংলাদেশকে উন্নত করব, জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলব। তার নীতি আদর্শ বাস্তবায়ন করব, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করি। এত নির্যাতন এত অত্যাচার সেই জিয়াউর রহমান করেছে, তারপরও কিন্তু আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা কিন্তু এই দলটা শক্ত করে ধরে রেখেছেন। জাতির পিতার আদর্শকেই তারা ধারণ করে রেখেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসি। তার আগে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিল। জিয়াউর রহমান যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে, মানুষ খুন করেছে, খালেদা জিয়াও একই কায়দায় একই কাজ করেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে, অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের স্বর্ণযুগ শুরু হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ফের সন্ত্রাস, খুন, হত্যা, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেন বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির দুঃশাসনের কারণেই দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সেই সময় আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একেবারে মাঠ পর্যায়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল। আমাকে বিদেশ থেকে আসতে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু আমি চলে আসি। এরপর আমাকে গ্রেফতার করা হয়। আামদের দেশের মানুষ সচেতন ছিল। আমাদের ছাত্রসমাজ, শিক্ষক, আমাদের নেতাকর্মীরা রুখে দাঁড়িয়েছিল বলেই সেই ইমার্জেন্সি সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। খালেদা জিয়ার দুঃশাসন ভুলে যায়নি বলেই ওই নির্বাচনে মানুষ তাদের ভোট দেয়নি। কিন্তু ওই নির্বাচনে বিএনপি যে মাত্র ২৯টি সিট পেয়েছিল, অনেকেই তা ভুলে যায়।

আওয়ামী লীগ সরকার বাকস্বাধীনতা বিশ্বাসী উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এতগুলো টেলিভিশন কে দিয়েছে? বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত তো আমাদের সরকার করেছে। কই, খালেদা জিয়া সরকারে এসে তো করেনি! আর টকশোতে গিয়ে টক-মিষ্টি কথা বলার সুযোগটা কত মানুষ পাচ্ছে? টক টক কথা তো বলেই যাচ্ছে। এই যে মানুষকে কথা বলার সুযোগ, তারপরও বলবে, এই সরকারের আমলে কথা বলার অধিকার নেই। বলে যাচ্ছে, কিন্তু তারপরও বলবে নেই। আসলে এই ধরনের পরচর্চা করাটা তাদের অভ্যাস।

মুজিববর্ষ উদযাপনসহ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন দেশে-বিদেশে সরকারি ও দলীয়ভাবে পালন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যাব, আমরা সে পরিকল্পনা নিয়েছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে। ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়নে ছক তৈরি করে, নীতিমালা তৈরি করে, পরিকল্পনা নিয়ে নিয়েছি।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা মানে মানুষের উন্নয়ন, দেশের উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা মানে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সম্মান আরও বেড়ে যাওয়া। আর ওই বিএনপি ক্ষমতায় এলে পাঁচ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। সন্ত্রাসের দেশ, জঙ্গিবাদের দেশে পরিণহত হয়, দুর্ভিক্ষ-দুর্যোগের দেশে পরিণত হয়। আজ সেই পরিচয় আমরা পাল্টে দিয়েছি। এখন বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ উন্নয়নের বিস্ময় বলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।

উন্নয়নের এই অর্জনকে ধরে রাখার তাগিদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সবসময় আমি একটি কথা চিন্তা করি, আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৩ বছর সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে সবসময় চলব। কিন্তু পঁচাত্তরের পর থেকে সেই মাথাটা হেঁট হয়ে গিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার আমরা সেই সম্মান নিয়ে বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারি। এই অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে।

‘ওই ঘুষখোর, সুদখোর, এতিমের অর্থ চুরি করা, মানি লন্ডারিং, গ্রেনেড হামলাকারী, বোমা হামলাকারী, আগুনে পুড়ে মারা অগ্নি সন্ত্রাসী— এরা যেন আর কোনোদিন এই দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারে, দেশকে ধ্বংসের দিকে না নিতে পারে— জাতির কাছে সেটাই আমার আহ্বান,’— বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা পরিচালনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সভাপতির একপাশে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা ছিলেন। উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, আবুল মাল আবদুল মুহিত, তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ,আব্দুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, আবদুল মতিন খসরু, নুরুল ইসলাম নাহিদ, কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য ও আব্দুল মান্নান খান উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও জাতীয় কমিটির সদস্যরা সামনের দিকে বিভিন্ন আসনে উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন