বিজ্ঞাপন

পদ্মার বুকে পাল তোলা নৌকায় সম্মেলন করবে আ.লীগ

December 4, 2019 | 11:56 pm

নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রমত্ত পদ্মার বুকে ৪০টি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে পদ্মাসেতু। সেটি সম্পূর্ণ দৃশ্যমান। পদ্মাসেতুর সামনের বিশাল জলরাশিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছোট ছোট নৌকা। একপাশে চরে জেগে আছে কাশবন। এমনই একটি আবহের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকার এক পাল তোলা নৌকা। তাতে আবার জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি। এর পেছনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিশাল ছবি।

বিজ্ঞাপন

এমন দৃশ্যকে কল্পনা মনে হলেও তাকে বাস্তবে রূপ দিতেই শত শিল্পী ও কলাকুশলী এখন নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এই চিত্রের বাস্তবায়ন হলেই যে সেই বিশাল নৌকাটি পরিণত হবে একটি মঞ্চে। আর সেই মঞ্চ থেকেই আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন শেখ হাসিনা।

আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম এই জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৭ মার্চ থেকে পালিত হবে মুজিববর্ষ। এর আগেই ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে মুজিববর্ষের কাউন্টডাউন। দেশে-বিদেশে মুজিববর্ষের বিভিন্ন আয়োজন সামনে রেখে আগের সম্মেলনের মতো জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ। তবে সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঠিকই থাকবে নজরকাড়া সাজসজ্জা ও আলোর ঝলকানি।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটি সূত্রে জানা গেছে, দলের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের মঞ্চ নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকাসহ মূল মঞ্চটি এমনভাবে স্থাপন করা হবে, যেন পদ্মা নদীর বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি বিশাল নৌকা। সেই নৌকার চারপাশজুড়ে থাকছে প্রমত্ত পদ্মার বিশাল জলরাশি। এর মধ্যে থাকছে স্বপ্নের পদ্মাসেতুও। এছাড়াও পদ্মার জলতরঙ্গ, পদ্মার বুকে ঘুরে বেড়ানো ছোট ছোট নৌকা, এমনকি চরের মধ্যে কাশবনের উপস্থিতিও থাকবে। এর মধ্যে মূল মঞ্চটি হবে ১০২ ফুট দীর্ঘ, ৪০ ফুট প্রশস্ত। আর সামনের পদ্মাসেতুতে থাকবে ৪০টি পিলার।

মঞ্চের যে নৌকাটি, সেটিও কোনো সাধারণ নৌকা হবে না। এই নৌকায় থাকবে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি। নৌকার পালগুলোতে থাকবে দলীয় প্রতীকসহ অন্যান্য বক্তব্য। আর স্মৃতিসৌধের পেছনের দিকে থাকবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি। এছাড়া নৌকার পেছনের দিকে দেয়ালের মতো জায়গায় থাকবে জাতীয় চার নেতাসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন সময় অবদান রেখে আসা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি। এছাড়াও সম্মেলনস্থলে সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বিশাল বিশাল ফেস্টুন, তাতে ছবি ছাড়াও থাকবে বিবরণ। শত শিল্পী ও কলাকুশলীর নিরলস প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলেছে সম্মেলনস্থল প্রস্তুত করার যাবতীয় কাজ।

দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, ২০ ডিসেম্বর সম্মেলনের সূচনা হলেও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে সম্মেলনের জন্য। এরপর ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দিন সম্মেলনস্থল থাকবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। তারা এই সময়ের মধ্যে সম্মেলনস্থলটি ঘুরেফিরে দেখতে পারবেন। এরপর ২০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় শুরু হবে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। পরদিন ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে দলের কাউন্সিল অধিবেশন।

এর আগে, গত রোববার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রধান অতিথি দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে। এ কারণে ঠিক যতটা না করলেই নয়, ঠিক ততটুকুই করব সম্মেলনে। তাই আমরা সাজসজ্জার দিকে না গিয়ে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলার দিকে মনোযোগ বেশি দিচ্ছি।

এদিকে, বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে মঞ্চ নির্মাণ পরিদর্শনের প্রস্তুতি দেখতে পরিদর্শনে যান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সম্মেলনের মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এসময় নানক সাংবাদিকদের বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরেও কোনো ধরনের সাজসজ্জা হবে না। এবারের সম্মেলনে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার কাউন্সিলর ও ডেলিগেট অংশ নেবেন।

এসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবং মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির সদস্য সচিব মির্জা আজম, আইন বিষয়ক সম্পাদক ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন