বিজ্ঞাপন

এটা বাড়াবাড়ি: প্রধান বিচারপতি

December 5, 2019 | 1:16 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) আদালতে আইনজীবীদের উপস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এ ঘটনাকে তিনি বাড়াবাড়ি বলেও উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র  করে হট্টগোল হওয়ার ঘটনায় এমন মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আমাদের শক্তি দেখান? তখন বিএনপি’র আইনজীবীরা বলেন, ‘মাইলর্ড আমরা তো আপনার কাছেই আসব’।

এ দিন সকালে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে নজিরবিহীন হট্টগোল হয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। দুইপক্ষের হট্টগোলের মধ্যে সাত মিনিট চুপচাপ বসে ছিলেন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি।

বিজ্ঞাপন

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বৃহস্পতিবারের (৫ ডিসেম্বর) মধ্যেই শুনানি করতে চাইলে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উচ্চবাচ্য শুরু হয়। জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ, আগে তার জামিন দেন, প্রয়োজনে শুনানি পরে হোক।

তখন আদালত জানান, আগামি বৃহস্পতিবার তারা শুনানি শুনবেন। এরপর বিএনপির আইনজীবীরা আদালতে আবার উচ্চবাচ্য শুরু করেন।

খালেদা জিয়ার মামলা, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি

সাত মিনিট চুপচাপ বসে ছিলেন প্রধান বিচারপতি

‘আজকে একটাই আইটেম, খালেদা জিয়া’

আদালত আমাদের কথা শোনেননি: জয়নুল আবেদীন

থমকে গেছে বিচারকাজ

অ্যাটর্নি জেনারেলকে দুষলেন বিএনপির আইনজীবীরা

কয়েক মিনিট ধরে এই অবস্থা চলার পর আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতিসহ ছয় জন বিচারপতি এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান। এ সময় আদালতে উপস্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা শেইম শেইম বলে চিৎকার করতে থাকেন।

পরে বেলা সাড়ে ১১টায় আবারো আদালতের এজলাসে ওঠেন তিনি। তখনও বিএনপি’র আইনজীবীরা উচ্চস্বরে শ্লোগান দিতে থাকেন অন্য কোনো মামলার শুনানি না করতে।

এই অবস্থার মধ্যেই আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি তালিকার ৯ নম্বরে থাকা একটি মামলার শুনানি শুরু করেন। এ সময় আদালতের দুদিকে বিএনপি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অবস্থান নেন। একইসঙ্গে বিএনপি’র আইনজীবীরা ৯ নম্বর মামলার শুনানি বাধাগ্রস্ত করতে বারবার শ্লোগান দিতে থাকেন। বারবার এমন শ্লোগানে থমকে যায় বিচারকাজ।

বৃহস্পতিবার মামলা তালিকায় ১৫৫টি মামলা শুনানির জন্য ছিল। এর মধ্যে এক থেকে ছয় নম্বর পর্যন্ত শুনানি হলেও খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে আটকে যায় বাকি কার্যক্রম। খালেদা জিয়ার আইটেম ছিল সাত নম্বর। এই মামলার শুনানির সময় থেকে দুপুর সোয়া একটা পর্যন্ত আর কোনো মামলার শুনানি হয়নি। দুপুর সোয়া একটায় এজলাস থেকে বেরিয়ে যান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

এছাড়া খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দীন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন, এ জে মোহাম্মদ আলী, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বিএনপির শতাধিক আইনজীবী।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. মো. আকতারুজ্জামান। রায়ে খালেদা জিয়া ছাড়া অপর তিন আসামিকেও সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপিল করলে ৩০ এপ্রিল তা শুনানির জন্য গ্রহণ করে অর্থদণ্ড স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

সারাবাংলা/এজেড/জেএএম

বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন