রবিবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

যৌন ব্যবসার টাকা লেনদেন নিয়ে খুন হন ২ নারী

ডিসেম্বর ৫, ২০১৯ | ৫:০৩ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে শ্বাসরোধে দুই নারীকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। যৌন ব্যবসার টাকা লেনদেন নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে খরিদদারদের হাতে দুই নারী খুন হন বলে ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানিয়েছে। এ অভিযোগে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর সদরঘাট থেকে লঞ্চে ওঠার সময় দুইজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এরা হলেন ইউসুফ খান (২০) আরেকজন রমজান (১৪)।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন।

বিজ্ঞাপন

বাতেন বলেন, ‘গত ২ ডিসেম্বর রাতে মিরপুরে রহিমার ভাড়া করা বাসায় যান যৌনকর্মী সুমি। ওই রাতে বাসায় তাদের সঙ্গে রাত কাটাতে আসেন খরিদদার ইউসুফ ও রমজান। রহিমার সঙ্গে চুক্তি হয়, তাদের দুইজনের সঙ্গে রাত কাটাতে হলে ছয় হাজার টাকা দিতে হবে। কিন্তু ইউসুফ জানান, তাদের কাছে তিন হাজার টাকা আছে। কাজ শেষে বাকি টাকা রমজান এসে দিয়ে যাবেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

রহিমা এ সময় হুমকি দেন, বাকি টাকা না দিলে তারা বিষয়টি বাবুলকে (যৌন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী) বলে দেবেন। তখন বাবুল এসে তাদের মেরে ফেলবে- এই বলে রহিমা দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। সুমির ঘরে ইউসুফ ঢোকার পর রমজান দরজা বন্ধ করে দিয়ে বাইরে বারান্দায় অবস্থান নেন।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানান, ভোর রাতের দিকে বারান্দায় থাকা রমজান সুমির ঘরে ঢোকেন। সুমি এতে চিৎকার শুরু করেন। তখন সুমির গলা চেপে ধরেন রমজান ও ইউসুফ। একপর্যায়ে ‍সুমি মারা যান। এ অবস্থা দেখে তারা বুঝতে পারে, টাকা দিতে পারছি না। সকাল হলেই বাবুল চলে আসবে। টাকার জন্য মারধর করবে। বাইরেও যেতে পারছেন না। কারণ বাইরের দরজায় তালা লাগানো, সেই তালার চাবিও রহিমার কাছে। সে জন্য ওই দুইজন রহিমার দরজায় নক করেন। রহিমা বের না হলে তাকে মোবাইল থেকে তিনবার কল করেন। রহিমা বের হয়ে টাকা চাইলে ওই দুইজন তার গলাও চেপে ধরেন। এতে রহিমা মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে তার কক্ষে থাকা ১৪ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে রমজান ও ইউসুফ পালিয়ে যান।

৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রহিমার পালিত ছেলে সোহেল ওই বাসায় যান। সেখানে দুজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনার দিন থেকেই গোয়েন্দা পুলিশের (পশ্চিম) পল্লবী জোনাল টিমের সহকারী কমিশনার শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামেন। প্রযুক্তিগত সহায়তায় গোয়েন্দা পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে।

এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল বাতেন বলেন, ‘রমজান ও ইউসুফ দুজনই মিরপুরে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। এর মধ্যে আগে থেকেই ওই বাসায় রমজানের যাতায়াত ছিল।’

৪ ডিসেম্বর সকালে রহিমা বেগমের মেয়ে রাশিদা বেগম মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

সারাবাংলা/ইউজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন