শুক্রবার ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

‘সংসদ ভবনের পাশে খেলার মাঠ পাবে প্রতিবন্ধীরা’

ডিসেম্বর ৫, ২০১৯ | ৮:৩২ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় মানিক মিয়া এভিনিউয়ে প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলার জন্য মাঠ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবন্ধীদের যারা খেলাধুলা করে, তাদের প্র্যাকটিসের জন্য একটা জায়গা করে দিচ্ছি। এরই মধ্যে ডিজাইন হয়ে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি এটা হয়ে গেলে সেখানে তারা খেলাধুলা করতে পারবে। সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৮তম আন্তর্জাতিক ও ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স সুবর্ণ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- সবাই মানুষ, প্রতিবন্ধীরাও মূলস্রোতে একসঙ্গে চলবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, আবাসিক সুবিধা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিতে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সুবর্ণ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনটির উদ্বোধন ঘোষণা শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিল্পীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতি পরিবেশনা উপভোগ করেন। এরপর সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে সঙ্গে নিয়ে সুবর্ণ ভবনে ফলক উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যখন প্রথম সরকারে ছিলাম, সেসময় আমাকে জানালো, আমেরিকায় স্পেশাল অলিম্পিক হবে। সেই আয়োজনে আমাদের খেলোয়াড়রা যাবে, তার জন্য টাকা প্রয়োজন। আমার কাছে যতটা চেয়েছিল, সব দিয়েছিলাম। সেই প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরা সেসময় ২১টি স্বর্ণসহ সব মিলিয়ে ৭২টি পদক নিয়ে এসেছিল। আমাদের সুস্থ যারা, তারাও কিন্তু এটা পারেনি।

প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে আমরা একটি কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা করেছি। সেটা খুব শিগগিরই পাস করে নির্মাণ করব। এই বাইরে আমাদের সংসদ ভবনের সঙ্গে একটি জায়গা আছে। ওই জায়গাটা ছিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। ওখানে মূক ও বধির স্কুল ছিল। পরে স্কুলটি মিরপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে সংসদ ভবনের পাশের জায়গাটি খালি পড়ে ছিল।

সংসদ ভবনের পাশের ওই স্থানটির মালিকানা নিয়েও জটিলতা ছিল। প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনো এক ‘বড়’ ব্যবসায়ী দলিল তৈরি করে সেই জায়গার মালিকানা দাবি করেছিলেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখনকার স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জায়গাটির মালিকানা নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেন। দলিল-পত্র ঘেঁটে দেখা যায়, সেটি সরকারি জায়গা, ব্যক্তি মালিকানাধীন নয়। এরপরই জায়গাটি সরকার নিজেদের দখলে রেখে দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, তখন সংসদে স্পিকার ছিলেন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। তাকে বললাম, এই জায়গাটি সংসদের জায়গা হিসেবে আপাতত আমরা নিয়ে রাখি। ভবিষ্যতে এখানে আমি একটা কিছু করে দেবো। এখন সেই জায়গাটিতে আমরা উন্নয়ন করে দিচ্ছি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে বলেছি, আমাদের প্রতিবন্ধীরা যারা খেলাধুলা করে, তাদের প্র্যাকটিসের জন্য জায়গাটি উন্নয়ন করা হোক। এর জন্য প্রয়োজনীয় নকশা হয়ে গেছে, পরিকল্পনা চূড়ান্ত। খুব দ্রুতই এটি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

ঢাকার অদূরে সাভারেও প্রতিবন্ধীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি স্থাপনা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, সেখানে এরই মধ্যে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে চারশ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলার জন্য ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদরা খুব ভালো করছে বলেই তাদের আরও বেশি সুবিধা করে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। কাজেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে আমাদের প্রতিবন্ধীদেরও যেন কর্মসংস্থান হয়, সে ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। কারণ আমরা একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চাই। কারণ জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। কাজেই এই স্বাধীন দেশে সব মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে— সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন