বিজ্ঞাপন

উন্নয়ন প্রকল্পে বিকল্প অর্থায়নের সন্ধানে সরকার, বৈঠক ১৮ ডিসেম্বর

December 5, 2019 | 9:40 pm

জোসনা জামান,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিকল্প অর্থায়নের খোঁজ করছে সরকার। এক্ষেত্রে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) পাশাপাশি আরও কিভাবে বিনিয়োগ নিয়ে আসা যায়, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী ১৮ ডিসেম্বর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। ‘বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিকল্প অর্থায়ন সংক্রান্ত’ শীর্ষক এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। গত ২৮ নভেম্বর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিভাগ ও সংস্থার কাছে।

বিজ্ঞাপন

উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর জন্য বিকল্প অর্থায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের প্রতিবছর অন্তত ছয়শ কোটি মার্কিন ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন হবে। এছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নে যে পরিমাণ বিনিয়োগ হবে, তার ৬ শতাংশ আসতে হবে অভ্যন্তরীণ বেসরকারি খাত থেকে। তাই এ উদ্যোগটি সময়োপযোগী। সেজন্য আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবায়নের জন্য যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে, সেখানে উন্নয়ন প্রকল্পে বিকল্প অর্থায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় বৈঠক নিয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় চারটি— কোন ধরনের প্রকল্প পিপিপি প্রকল্পে যাবে, তা নির্ধারণের জন্য পিপিপি প্রকল্পের মৌলিক ধারণা এবং ব্যবহারোপযোগী নির্দশনামূলক গাইডলাইন তৈরি; পিপিপি প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন ইনস্ট্রুমেন্ট নির্ধারণ (যেমন— দীর্ঘ মেয়াদি বন্ড, বাজার থেকে মূলধনের জন্য অর্থ সংগ্রহ ইত্যাদি); কোম্পানি আইনের আলোকে ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিনিয়োগ; এবং প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন প্রক্রিয়া ও সংসদের অনুমোদন।

চিঠিতে বিকল্প অর্থায়ন নিয়ে আবশ্যিকভাবে যেসব বিভাগ বা সংস্থার কাছে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে— অর্থ বিভাগ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার একটি অন্যতম মাধ্যমে পিপিপি’র মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন। চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পিপিপি’র মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এডিপির বিনিয়োগ প্রকল্পের ৩০ শতাংশ পিপিপিতে বাস্তবায়নের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি কার্যকর করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন  সারাবাংলাকে বলেন, আমরা পিপিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। এডিপি ও সংশোধিত এডিপি তৈরির নীতিমালায়ও ৩০ শতাংশ পিপিপি প্রকল্পের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, পিপিপি কিভাবে কার্যকর করা যায়, সেটি দেখতে হবে। এর বাইরে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে সভরেন বন্ড ছেড়েও অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। তাছাড়া বিশ্বব্যাংকের আইডিএ’র বাইরেও তো আইবিআরডি থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব সুযোগ কাজে লাগাতে বেশকিছু কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে ওই উন্নয়ন প্রকল্পে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ অবারিত হবে। বিকল্প উৎস বেশি থাকলে সরকারের জন্য সুবিধা হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রকল্পগুলোতে বর্তমান অর্থায়নের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিও জোর দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, বিকল্প অর্থায়নের আগে বর্তমান সেসব উৎস থেকে অর্থায়ন পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কেননা এখনো পাইপলাইনে অনেক বৈদেশিক অর্থ পড়ে আছে। স্বাভাবিক যে পরিমাণ অর্থ ছাড় হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে উন্নয়ন প্রকল্পে বিকল্প অর্থায়ন হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব বা পিপিপি উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ১০টি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এগুলো হলো— জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প বিষয়ক রুলস, পিপিপি সংক্রান্ত সিরিজ প্রশিক্ষণ, বোর্ড অব গভর্নরসের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রকল্প রিভিউ সভা, পিপিপি টিএএফ ফান্ডে অর্থ হস্তান্তর, পিপিপি প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, পিপিপি আইন-২০১৫ সংশোধন, বাংলাদেশ জাপান জিটুজি পার্টনারশিপ হালনাগাদকরণ, প্রকল্পের সমন্বয়করণ ও পরিচালনে গুরুত্ব, এডিপিতে ৩০ শতাংশ প্রকল্প পিপিপিতে গ্রহণ এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পিপিপি অন্তর্ভুক্তকরণ।

এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজটেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পিপিপি। এক্ষেত্রে গত অর্থবছরের চেয়ে ৫০০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। বাজেটে পিপিপি ফান্ড বাবদ বরাদ্দ রাখা আছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৬২টি প্রকল্পের তালিকা যুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি উদ্যোক্তা খোঁজা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মতো মেগা প্রকল্পও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এডিপিতে পিপিপি’র মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য যেসব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রকল্প রয়েছে ১৮টি। এছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তিনটি, বাংলাদেশ রেলওয়ের ১২টি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাতটি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একটি, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পাঁচটি, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সাতটি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আটটি এবং গণপূর্ত অধিদফতরের একটি প্রকল্প রয়েছে।

সারাবাংলা/জেজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন