রবিবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের তীব্রতা বাড়ছে, শীতবস্ত্র বিতরণে প্রশাসন

ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ | ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

ঠাকুরগাঁও: দেশের সর্ব উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। ভোরে ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়া থাকছে জেলাটি। সূর্য ডুবার সঙ্গে সঙ্গে এখন প্রতিরাতেই মৃদু বাতাস বইছে। তাপমাত্রাও নেমে আসছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এতে বিপাকে পড়তে শুরু করেছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষেরা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, রাতের বেলায় অনেককে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতেও দেখা যাচ্ছে। জেলায় বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ। হাসপতাল সূত্রে জানা গেছে, এরইমধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শীতকে কেন্দ্র করে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতেও ভিড় বাড়ছে। আর নিম্ন আয়ের মানুষেরা ফুটপাতে গড়ে ওঠা দোকানের পুরোনো কাপড়ের উপর ভরসা করছেন।

তবে এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে সালন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ৫০টি দুস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক আল-মামুন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরতি রাণী, জিটিভির জেলা প্রতিনিধি এমদাদুল ইসলাম ভূট্টোসহ আরও অনেকে। এদিকে, শীতবস্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে বিভিন্ন সংগঠনেরও। এগিয়ে আসতে শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী তরুণেরাও।

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানব কল্যাণ পরিষদের পরিচালক রবিউল আজম বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা হিমালয় ঘেষা হওয়ায় প্রতি বছর এ জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। যে কারণে বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত রোগ দেখা দেয়। এই এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণ করে। প্রতি বছর সংস্থার পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এবারো শীতবস্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলায় শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ফুটপাতেও বিক্রি বাড়ছে শীতের কাপড়ের। শহরের জেলা স্কুল মাঠের পাশে সেকেন্ড হ্যান্ড শীতবস্ত্র বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় এখন বাড়ছেই। সেখানে শীতবস্ত্র কিনতে আসা সদর উপজেলার জামালপুরের নারায়ন চন্দ্র বলেন, আমরা গরিব মানুষ। শীতবস্ত্রের যে দাম আমাদের পক্ষে শীতের নতুন কাপড় কেনা সম্ভব নয়। আমরা প্রতি বছর এই বাজার থেকে শীতবস্ত্র ক্রয় করে ঠান্ডা নিবারণ করি। একই কথা বলেন চিলারং থেকে আসা আনোয়ার হোসেন ও আকচা থেকে আসা খাদেমুল ইসলাম।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বছর স্থানীয় প্রশাসন শীতার্ত দুস্থ অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত সদর উপজেলায় ৮ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/ইএইচটি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন