বিজ্ঞাপন

প্যাকেজ নাটকের ২৫ বছর পূর্তি, ইন্ডাস্ট্রি কী পেলো?  

December 8, 2019 | 1:12 pm

আহমেদ জামান শিমুল

বাংলাদেশ টেলিভিশন এক সময় নাটক প্রযোজনার পুরো বিষয়টা তারা নিজেরাই করতো। বাইরে থেকে কেউ নাটক বানিয়ে এনে প্রচার করার সুযোগ ছিলো না। কিন্তু সে অচলায়তন ভেঙ্গে যায় ‘প্রাচীর পেরিয়ে’ নাটকটি দিয়ে। এরপর থেকে বিটিভির বাইরে প্রযোজনায় যত নাটক প্রচার হত সেগুলোকে প্যাকেজ নাটক বলা হত।

বিজ্ঞাপন

১৯৯৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ‘প্রাচীর পেরিয়ে’ বিটিভিতে প্রচারিত হয়। সে হিসেবে প্যাকেজ নাটকের ২৫ বছর পূর্তি হয়েছে।

প্রখ্যাত নাট্যব্যত্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত নাটকটি প্রযোজনা করেছিলো ‘সাইট অ্যান্ড সাউন্ড’। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিপাশা হায়াত, নোবেল, আবুল হায়াত, কে এস ফিরোজ।

‘মাসুদ রানা’ সিরিজের জনক কাজী মোতাহার হোসেনের ‘পিশাচ দ্বীপ’ অবলম্বনে নাটকটি নির্মিত হয়। এতে একজন দুর্ধর্ষ স্পাইয়ের ভূমিকায় দেখা যায় নোবেলকে।

বিজ্ঞাপন

এ নাটকটির পর বিটিভি পায় ফেরদৌস হাসান, অরুণ চৌধুরী, মোহন খান, সালাউদ্দিন লাভলুর মত পরিচালকদের। এমনকি প্রখ্যাত নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদও বিটিভির জন্য আলাদা করে নাটক বানাতে থাকেন। দর্শক পায় ‘প্রিয়জন’, ‘কুসুম’, ‘নাটের গুরু’, ‘আজ নিতুর বিয়ে’র মত নাটক।

প্রথমে প্যাকেজ নাটকের জন্য বরাদ্দ ছিলো এক ঘণ্টা। এরপর ‘টেলিফিল্ম’ শুরু হয় বিটিভিতে। মৌসুমি ও তৌকির আহমেদ অভিনীত ‘আড়াল’ বাংলাদেশের প্রথম টেলিফিল্ম। যেটির দৈর্ঘ্য ছিলো প্রায় দেড় ঘণ্টা।

বিটিভির পর জনপ্রিয় হয় একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত ‘বন্ধন’ বেশ জনপ্রিয়। এরপর তো দেশে একে একে ২৯টি চ্যানেল হয়েছে। কিন্তু নাটকের ইন্ডাস্ট্রি কী পেলো গত ২৫ বছরে?

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে নির্মাতা-অভিনেতা তৌকির আহমেদ বলেন, ‘প্যাকেজ নাটকের মধ্য দিয়ে নতুন যুগের, নতুন ধরনের কাজের শুরু হয়েছিলো। শুরুর দিকে কিন্তু টিভি নাটক অন্য ধরনের উৎকর্ষতা পেয়েছিলো। আপনি ৯০ দশকের দিকে যদি তাকান, তাহলে দেখবেন প্রচুর ডায়নামিক কাজ হয়েছে। অনেক কাজ তো শিল্পমানে সিনেমার সমান হয়েছিলো।’
কিন্তু তৌকির আহমেদ আফসোস করছেন গত ১০ বছরে নাটকের ইন্ডাস্ট্রি অনেক সংকটে পড়েছে। এজন্য তিনি বলছেন, ‘একটা প্রতিষ্ঠান যখন বড় হয়, তখন সেখানে অনেক বেশি শৃঙ্খলার দরকার হয়। কিন্তু আমাদের এখানে কোন নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। তাই দরকার নীতিমালা।’

অন্যদিকে নির্মাতা ফেরদৌস হাসান মনে করেন, সবার আগে নাটকের ‘ইন্ডাস্ট্রি’র সরকারি স্বীকৃতি দরকার। এরপর অন্যান্য সংকট থেকে উত্তরনের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘এখন তো বাজেট কমতে কমতে এমন জায়গায় চলেিএসেছে যে লেখককে টাকা দিতে গিলে পরিচালক টাকা পান না। আবার শিল্পীদের সম্মানী এমন হয়েছে যে তাদের সম্মানী দিতে গিয়ে নাটকের অন্যান্য খরচ করা যাচ্ছে না। আর তা হবেই না কেনো, শিল্পী যখন বুঝে পরিচালক কিছু জানে না, তাহলে তো টাকা বেশি হাঁকাবেই।’

ফেরদৌস হাসান অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেকেই তো নিজের টিভি চ্যানেলে নিজেই নাটক বিক্রি করেন। এজেন্সির দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। ভালো প্রযোজক ও চ্যানেল লাগবে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এজেডএস/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন