বিজ্ঞাপন

‘চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন নির্মাতা ও কর্মীদের জন্য প্রতিবন্ধক’

December 8, 2019 | 5:25 pm

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

‘চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন’- যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকর্মীদের দীর্ঘ দিনের একটি দাবি। এই দাবির প্রেক্ষিতে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ (এফএফএসবি) আয়োজনে প্রস্তাবিত ‘চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন ২০১৯’ এর খসড়াপাঠ ও বিচার বিষয়ক একটি জাতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। খসড়া প্রণয়ন এবং তা সর্বসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি স্থপতি লাইলুন নাহার স্বেমি। এতে অংশ নেয় দেশের ৪০টি চলচ্চিত্র সংসদের প্রতিনিধি, তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা, চলচ্চিত্র শিক্ষক, চলচ্চিত্র গবেষক ও চলচ্চিত্র কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

সভার শুরুতে ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি বেলায়াত হোসেন মামুন ‘চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন ২০১৯’ এর খসড়াপাঠ করেন। পাঠ শেষে তিনি প্রারম্ভিক আলোচনার সূত্রপাত করেন। বেলায়াত হোসেন মামুন তার প্রারম্ভিক আলোচনায় বলেন, ‘বাংলাদেশের সকল চলচ্চিত্র বিষয়ক আইনের একটি প্রধান সমস্যা হলো এই আইনগুলো সবই প্রণীত হয়েছে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কর্মীদের স্বাধীনতাকে সীমিত করবার অভিপ্রায়ে। এই প্রবণতার শুরু হয় ১৯১৮ সালে প্রণীত সিনেমাটোগ্রাফ আইনের সূত্র ধরে। ব্রিটিশ কলোনিয়াল শাসনের সময় ব্রিটিশ সরকারের যে মনোভাবে স্থানীয় মানুষদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় আইন প্রণীত হয়েছে, সেই একই ধারা আমরা পাকিস্তান পর্বে প্রণীত আইন এবং বাংলাদেশ পর্বে প্রণীত আইনে দেখতে পাচ্ছি। প্রস্তাবিত চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইনটিও সেই একই ধরণের দমনমূলক আইন। এই আইনটির মধ্যে চলচ্চিত্র নির্মাতা বা কর্মীর মত ও অভিব্যক্তি প্রকাশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হয়েছে, যা আমাদের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এই আইন অধিকতর আলোচনা-পর্যালোচনা ছাড়া গৃহিত হওয়া উচিত নয়।’

‘চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন নির্মাতা ও কর্মীদের জন্য প্রতিবন্ধক’

বিজ্ঞাপন

সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান, চলচ্চিত্র গবেষক আ আল মামুন। তিনি তার আলোচনায় বলেন, ‘শিল্পীর স্বাধীনতার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব না দিতে পারলে আমরা কোনোভাবেই উন্নতি করতে পারবো না। কিন্তু দুঃখজনক হলো বাংলাদেশে তা দেখা যায় না। বর্তমান বিশ্ব মানুষের স্বাধীনতার পরিসরকে ক্রমাগত বৃদ্ধি করবার চেষ্টা করছে। সেখানে আমরা যদি আমাদের শিল্পীদের, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কর্মীদের স্বাধীনতার পরিসরকে সংকুচিত করি তবে আমরা উল্টো পথে আছি বলতে হবে। বর্তমান সকল আইনকেই আর্ন্তজাতিক মানদন্ডে বিচার করতে হবে। বর্তমানে চলচ্চিত্রের যে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ তা আমাদের বিবেচনায় নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কর্মীদের অবাধ সৃষ্টিশীলতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের কাজ হওয়া উচিত শিল্প ও শিল্পীকে সহযোগিতা করা, তাকে বাঁধা দেয়া নয়।’

সভায় উপস্থিত এবং আলোচনায় অংশ নেন জেষ্ঠ্য চলচ্চিত্র সংসদকর্মী ও এফএফএসবি এর সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান, এফএফএসবি এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সাবেক সভাপতি বিপ্লব মোস্তাফিজ, ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অদ্রি হৃদয়েশ, রণেশ দাশগুপ্ত, চলচ্চিত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক রিপন কুমার দাশ, নারায়ণগঞ্জ ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইমতিয়াজ পাভেল প্রমুখ। তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে সাকী ফারজানা, পার্থিব রাশেদ, কাজী আতিকুল ইসলাম অভি, তানভীর আহমেদ মুন্না, রুমকী রুসা, কামরুন নাহার মুন্নীসহ আরও অনেকে।

ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি স্থপতি লাইলুন নাহার স্বেমির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভা সমাপ্ত হয়। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হলেন স্বপ্নবান একজন মানুষ। প্রত্যেক শিল্পীই তাই। এখন শিল্পী যদি স্বপ্ন দেখতে ভয় পায় অথবা শিল্পীর স্বপ্ন যদি বাঁধাপ্রাপ্ত হয় তবে তো শিল্প হবে না। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো একটি আধুনিক, উদার, গণতান্ত্রিক সার্টিফিকেশন সিস্টেম যেন বাংলাদেশে প্রবর্তণ করা যায়। কিন্তু তা তো হচ্ছে না। যে আইনটি আজ আমরা পাঠ করেছি তা খুবই নেতিবাচক একটি আইনের খসড়া। এই আইন আমাদের চাওয়ার একেবারে বিপরীত। এতে করে আমরা কষ্টই পেলাম। এই আইনটিকে আমরা এই অবস্থায় মেনে নিতে পারছি না। কারণ এই আইনটি আমাদের বর্তমান ও আগামীর চলচ্চিত্র নির্মাতা ও কর্মীদের জন্য প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। আমরা আশা করি সবাই এই আইনটির নেতিবাচক চরিত্র সম্পর্কে অবহিত হোক এবং আইনটিকে একটি অবাধ, গণতান্ত্রিক আইনে পরিনত করতে তৎপর হোক। আমরা কোনো শিল্পীর চিন্তা, বাক ও অভিব্যাক্তি প্রকাশে বাঁধা হয় এমন কোনো কিছুর সাথে আপস করতে পারি না। আমরা শিল্পীর নিরঙ্কুশ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আশা সবাই শিল্পীর স্বাধীনতার প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবেন।’

সবশেষে আয়োজকদের একটাই দাবি, ‘প্রস্তাবিত ‘চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০১৯’ একটি দমনমূলক আইন হতে যাচ্ছে, যা চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির জন্য ভীষণ বিপদজনক হবে; প্রস্তাবিত এই আইনটি নিয়ে অধিকতর বিচার-বিশ্লেষণ হওয়া জরুরি...’

সারাবাংলা/এএসজি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন