রবিবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচন: নৌকা চান বাদলের সহধর্মিনীসহ ১৯ জন

ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ | ১০:১৪ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি ও টানা তিনবারের সংসদ সদস্য প্রয়াত মইন উদ্দীন খান বাদলের মৃত্যুতে শূন্য চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। বাদলের স্ত্রী সেলিনা খানও এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে অংশ নিতে ফরম সংগ্রহ করেছেন। তার পাশাপাশি সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরাও নৌকার মনোনয়ন চান এই নির্বাচনে। সব মিলিয়ে এই উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৯ জন!

বিজ্ঞাপন

গত ৭ নভেম্বর ভোরে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদলের। পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত ১ ডিসেম্বর এই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তসফিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ১২ ডিসেম্বর। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৫ ডিসেম্বর এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২২ ডিসেম্বর। নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৩ জানুয়ারি

ইসি’র তফসিল ঘোষণার পর ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে উপনির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের আহ্বান জানায় আওয়ামী লীগ। ৫, ৬ ও ৭ ডিসেম্বর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ফরম বিক্রি ও জমা নেওয়া হয় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনে মোট ১৯টি মনোনয়ন ফরম জমা পড়েছে এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে। মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই চলছে। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে এই নির্বাচনের জন্য। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সন্ধ্যা ৬টায় দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে নৌকা প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত মইন উদ্দীন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান। বাকি ১৮ জনের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী (চট্টগ্রাম-৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য) নুরুল ইসলাম বিএসসি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. আবু তাহের, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, মো. ইমরান, এ টি এম আলী ইয়াজ খান, এম এম কফিল উদ্দিন, মুজিবুর রহমান, দিলারা ইউসুফ, মো. পারভেজ হাসান মান্নান, বিজয় কুমার চৌধুরী, রাশেক রসুল খান, মো. রাশেদুল হাসান, মো. আইয়ুব খান ও জোবাইরা নার্গিস। এই ১৯ জনের মধ্যে কার ভাগ্যে জুটবে নৌকার টিকিট, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সোমবারের মনোনয়ন বোর্ডের সভা পর্যন্ত।

বাদল জাসদে থাকলেও প্রতীক ছিল নৌকা, আমি আ.লীগ করি

প্রয়াত মইন উদ্দীন খান বাদল জাসদের একাংশের অন্যতম নেতা হলেও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি ছিলেন নৌকার প্রার্থী। তবে তার স্ত্রী সেলিনা খান বলছেন, স্বামী জাসদ করলেও তার জাসদের রাজনীতি করার বাধ্যবাধকতা নেই। বরং তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবেই নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান।

সেলিনা খান সারাবাংলাকে বলেন, বাদল সাহেব জাসদ করতেন। তবে শেষ নির্বাচন তিনি করেছেন জোট থেকে নৌকা প্রতীকে। তবে তিনি জাসদ করতেন বলে তার অর্থ এই না যে আমাকেও জাসদ করতে হবে। তিনি কখনো আমার ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি যে আমাকে জাসদ করতে হবে। রাজনৈতিক এই স্বাধীনতায় আমরা পরস্পর বিশ্বাস করতাম।

সেলিনা খান আরও বলেন, আমার বাবাকে ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত দেখেছি। আমার গোটা পরিবারই আওয়ামী লীগ পরিবার। আমি নিজেও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেই বিশ্বাস করি। আর সে কারণেই আওয়ামী লীগকে ধারণ করে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি এবং জমা দিয়েছি।

বাদলের স্ত্রী বলেন, আমি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি, তবে মনোনয়ন পাব কি না, সেটা তো আমার হাতে নেই। এটি নেত্রীর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্ত। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে মনোনয়ন দেবেন।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন