রবিবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

‘একাত্তরের কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর ডাক’

ডিসেম্বর ৯, ২০১৯ | ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

স্মারক বক্তৃতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের নানা দিক তুলে ধরলেন বক্তারা। উপস্থিত অতিথিরা জানলেন বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা দিক।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‌‌বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতামালা আয়োজনের ধারাবাহিকতায় রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হলো স্মারক বক্তৃতাপর্ব। এবারের স্মারকবক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. পবিত্র সরকার এবং নাট্যসমালোচক ও সংস্কৃতিবিদ জনাব অংশুমান ভৌমিক। এ সময় দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সচিব বদরুল আনম ভূইয়াসহ অনেক সুধীজন।

‘একাত্তরের কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর ডাক’ শিরোনামে বক্তব্য উপস্থাপন করেন নাট্য সমালোচক ও সংস্কৃতিবিদ জনাব অংশুমান ভৌমিক। তিনি তার বক্তব্যে বললেন, ‘ডাকে’র অনেক মানে। ডাকের দৌলতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের খবর উড়ে এসেছে কলকাতায়। মণীন্দ্র রায়ের চিঠি বই হয়ে বেরিয়েছে। বেরিয়েছে জাহানারা ইমামের না-পাঠানো চিঠি। কত একাত্তরের চিঠি এখনো অগ্রন্থিত। তেমনি আর এক ডাক হলো আহ্বান। তেমনি এক ডাক- বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো/বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এই ডাক শুনতে শুনতে ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।'

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, 'শুধু পূর্ব বাংলায় নয়, পশ্চিম বাংলাতেও এই ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন সংস্কৃতিকর্মীরা। যতীন সরকার যথার্থই লিখেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের জন্য ছিল আবেগাপ্লুত সহমর্মিতা। সে সহমর্মিতার মূল উৎস ছিল বাঙালিত্ব। বাঙালিদের একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হবে, বাংলা ভাষায় যারা কথা বলে তারাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, সব কাজকর্ম হবে বাংলায়। আবহমান বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির ধারক-বাহক সেই রাষ্ট্রটি, এরকম একটি সম্ভাবনা সকল বাঙালির বুকে শিহরণ জাগাত।’

সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. পবিত্র সরকারের বক্তব্যে উঠে আসে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যেভাবে সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছিল, ‘চোখে না দেখেও যে নেতা হিসেবে বুকে ঠাঁই দেওয়া যায়, যার ডাকে সাড়া দেওয়া যায়, সেই নেতাই হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে আমরা ছোটখাটো কয়েকজন মিলে কিছু কাজ করেছিলাম। আমি তখন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। তখন ওই বিশাল মানুষটির ছায়া আমাদের প্রেরণা দিয়েছেন। আমরা কেই বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, কিন্তু তাকে জেনে তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, আমরা তখন শিকাগোতে বসবাসকারী কয়েকজন মিলে একটি সংগঠন করেছিলাম। সংগঠনের ডাক দিতাম ডিনার ডেকে। কারণ ওখানে ডিনারে খুব প্রচলন। এছাড়াও অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে। এভাবে প্রায় ১০ হাজার ডলার তুললাম। ওই অর্থ দিয়ে পরবর্তী সময়ে বাংলার মুক্তিযুদ্ধের জন্য অস্ত্র, রাবারের নৌকা ও ডুবরীদের জন্য পোশাক কিনে পাঠিয়েছি। যুদ্ধের জন্য জীবন দিতে পারি নাই, কিন্তু চেষ্টা করেছি কিছু একটা করার জন্য। হিন্দু-মুসলমান মিলে যে একযোগে মাঠে নেমে আসা যায়, তা বুঝতে পেরেছি বঙ্গবন্ধুর মতো নেতার ডাকের মাধ্যমে।

সারাবাংলা/এএসজি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন