রবিবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

দেশের সিনেমা হলগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

ডিসেম্বর ৮, ২০১৯ | ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘মফস্বলের সিনেমা হলগুলো যেন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, তার জন্য যে ধরনের সহযোগিতা দরকার সেটা করতে পারব’—বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সমস্ত জেলা-উপজেলা পর্যায়ের মানুষের আস্তে আস্তে ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে। তাদের যাতে বিনোদনের ব্যবস্থাটাও ভালোভাবে হয়, সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

চলতি অর্থবছর থেকেই চলচ্চিত্রে অনুদান ১ কোটি

রোববার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি ২০১৭ ও ২০১৮ সালের বিজয়ীদের হাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে দেন।

বিজ্ঞাপন

‘ফাইল পড়তেই দিন যায়, সিনেমা দেখার সময় পাই না’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের সকলের জীবনমান উন্নত হবে। শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উদ্ভাসিত হবে, সেটাই আমার আকাঙ্ক্ষা, সেটাই আমরা চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৫৬ সালে পাকিস্তান আমলে শেখ মুজিবুর রহমান যখন মন্ত্রী হয়েছিলেন তখনই তিনি চিন্তা করলেন বাঙালিরা কেন চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারবে না? এরপর ১৯৫৭ সালে তিনি সংসদে তিনি পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা বিল উত্থাপন করে সেটা পাস করেন। তখন থেকে বাংলার মাটিতে বাঙালিদের দ্বারা সিনেমা শিল্পের যাত্রা শুরু হয়।’

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু এই শিল্পের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি চেয়েছিলেন, আমাদের সংস্কৃতি-কৃষ্টি ধরে রাখার জন্য আমাদের চলচ্চিত্র আরও কার্যকর হোক। কারণ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে একটা সমাজকে জানা যায়, আবার সমাজের কাছে কোনো বার্তা পৌঁছাতে হলে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সব থেকে সহজে পৌঁছানো যায়। এটা যেমন একটা সমাজকে সংস্কার করতে পারে, কলুষমুক্ত করতে পারে। আবার কখনো কখনো অপসংস্কৃতি একটা সমাজকে নষ্ট করতে পারে। কাজেই সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়ে চলতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এটাই চেয়েছিলেন, আমাদের সংস্কৃতি জগতে চলচ্চিত্রের যে একটা প্রভাব, সেটা যেন আমাদের দেশ এবং দেশের মানুষের যে সক্রিয়তা সেটাই যেন প্রকাশ পায়, আর সেভাবেই যেন বাঙালি সংস্কৃতি আরও স্থান করে নিতে পারে বিশ্ব দরবারে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৫ আগস্টের আমরা শুধু আর্থ-সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি, তা না। আমাদের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছিল। আমাদের সংস্কৃতির জগতেও অপসংস্কৃতির প্রচলনটা খুব বেশি দেখতে পেতাম। এমন এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যে পরিবার পরিজন, ছেলেমেয়ে নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার পরিবেশটাও ছিল না। যার ফলে সমাজের ওপর একটা বিরাট আঘাত এসেছিল।’

ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে এখন চলচ্চিত্রের পরিবেশ পরিবর্তন হচ্ছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অশুভ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসছি। এখন অনেক সমাজ সংস্কারকমূলক ও আবেদনমূলক বই (সিনেমা) হচ্ছে। যার জন্য মানুষের একটা আগ্রহ বাড়ছে। তবে ডিজিটাল যুগের প্রভাবে সিনেমা হলগুলি, বিশেষ করে আমাদের বিভিন্ন জেলায় জেলায় যে হলগুলি, সেগুলি আর চালু থাকছে না।’

শিল্পকলার সবগুলো মাধ্যমের সমন্বয়ে চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্র সব থেকে শক্তিশালী গণমাধ্যম উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষের চিন্তা চেতনা, মননে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। আপনাদের যারা পূর্বসূরি তারা কিন্তু অনেক সময় এই পথ দেখিয়েছেন। সমাজ সংস্কার বা সমাজের ভাল দিকগুলি তুলে ধরা, এবং মানুষের মাঝে যে গভীর দাগ কাটতে পারে, এবং মানুষকে আরও সুন্দর করে চলার প্রেরণা দিতে পারে। আমি মনে করি, জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র যত বেশি নির্মাণ করা যাবে, আমাদের সমাজের জন্য সেটা অত্যন্ত বেশি মঙ্গলজনক হবে।’

‘আমাদের দেশের অনেক শিল্পী পাশের দেশে গিয়ে আরও ভালো কাজ করে এবং সেখানে তাদের একটা স্থান করে নিতে পারে। তাহলে আমরা নিজের দেশেও কেন পারবো না আরও উন্নতমানের ছবি করে আমরা অন্য দেশের মানুষকে আকর্ষণ করতে।’

এছাড়া সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্ম যাতে আরও বেশি মনোনিবেশ করে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের দেশের এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। স্বাধীন বাংলাদেশ, আজকে বিশ্ব দরবারে আমাদের একটা অবস্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছি। সংস্কৃতি জগৎ থেকেও আমাদের মেধা বিকাশের মাধ্যমে আমাদের অবস্থানটা যেন আরও সুদৃঢ় করতে পারি।’

মুজিব বর্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় একটা চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ হচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, যিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন, আর এই সিনেমা শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়ে গেছেন। তার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবো। এই বাংলাদেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষ ক্ষুধাদারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে, উন্নত জীবন পাবে, সুন্দর জীবন পাবে, এখানে আর কেউ দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হবে না। সকলের জীবনমান উন্নত হবে এবং শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উদ্ভাসিত হবে, সেটাই আমার আকাঙ্ক্ষা, সেটাই আমরা চাই।’

রোববার (৮ ডিসেম্বর) প্রদান করা হয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র শিল্পীদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য প্রতমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। স্বাগত বক্তৃব্য রাখেন তথ্যসচিব আব্দুল মালেক।

সারাবাংলা/এনআর/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন