রবিবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

৪০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্ত হচ্ছে কেরাণীগঞ্জ-হাসাড়া মহাসড়ক

ডিসেম্বর ৯, ২০১৯ | ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রশস্ত হচ্ছে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের হাসাড়া পর্যন্ত মহাসড়ক। এজন্য ‘ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জের হাসাড়া পর্যন্ত জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ নামের প্রকল্পটি হাতে নিচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এতে খরচ ধরা হয়েছে ৪০৯ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ ও উন্নত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ৮২ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ, ১১৫ দশমিক ৯৯ বর্গমিটার ইকুরিয়া স্থানে এসডিই আবাসিক ভবন, ইকুরিয়া স্থানে বাউন্ডারি দেয়াল, সড়কবাঁধ প্রশস্তকরণ, নতুন পেভমেন্ট, অ্যাপ্রোচ সড়ক, সার্ফেসিং, পিসি গার্ডার ও আরসিসি সেতু, আরসিসি স্লোপ প্রোটেকশন উইথ জিও-টেক্সটাইল, আরসিসি টো-ওয়াল এবং আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর পরই প্রক্রিয়াকরণ শেষ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একনেকে অনুমোদন পেলে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কেরাণীগঞ্জ-হাসাড়া-বিরতারা-সিংপাড়া-কাজলপুর-নাগেরহাট সড়কটি মুন্সিগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা মহাসড়ক। সড়কটির দৈর্ঘ্য ২৩ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার। যার মধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাদিখান উপজেলায় পড়েছে ২৩ কিলোমিটার এবং ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় পড়েছে দশমিক ৮৯ কিলোমিটার। এ সড়কটি ঢাকা-মাওয়া জাতীয় মহাসড়ক এবং জিনজিরা-কেরাণীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ্মাসেতু প্রকল্প শেষ হলে ঢাকা-মাওয়া সড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবে এই সড়কটির গুরুত্ব অনেকাংশে বাড়বে।

এছাড়া কেরাণীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, সিরাজদিখান ও শ্যামনগর উপজেলাসহ ফরিদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষিজাতপণ্য প্রতিনিয়ত রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে পৌঁছানোর জন্য ঢাকা –মাওয়া সড়ক ছাড়া বিকল্প সড়ক হিসেবে নতুন সড়কটি ব্যবহার করবে। সড়কটি রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি উপজেলা হওয়ায় কেরানীগঞ্জ, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা সহজে ও দ্রুত সময়ে রাজধানীতে যাতায়াত করতে পারবে। এ জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে ৩৯২ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে চলতি বছরের জুলাই হতে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর চলতি বছরের ৩ জুলাই পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-মাওয়া জাতীয় মহাসড়ক এবং জিনজিরা-কেরাণীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে প্রকল্প এলাকার জনগণ নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল ভোগ করবে। এ কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন যোগ্য।

সারাবাংলা/জেজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন