রবিবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

খুলছে ঢাকা-দার্জিলিং-সিকিম রুট, যাত্রা শুরু ১২ ডিসেম্বর

ডিসেম্বর ৯, ২০১৯ | ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা থেকে প্রথমবারের মতো ভারতের দার্জিলিং ও সিকিম— দুই বড় পর্যটন গন্তব্যে বাস যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ১২ ডিসেম্বর। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত আরও একটি নতুন রুটে সরাসরি বাস চলাচল শুরু হচ্ছে। ফলে এখন থেকে ঢাকা থেকে পর্যটকরা সরাসরি বাসে করে সিকিম যেতে পারবেন। যদিও ১২ ডিসেম্বরের যাত্রাটি হবে ট্রায়াল রান। তবে এই যাত্রার ওপর নির্ভর করেই এই রুটে নিয়মিত হবে বাস চলাচল।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান এহছানে এলাহী সারাবাংলাকে বলেন, ১২ ডিসেম্বর ঢাকার মতিঝিল থেকে দু’টি বাস সিকিম ও দার্জিলিংয়ের পথে রওনা দেবে। পাঁচ দিনের সফর শেষে ১৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসবে বাস দু’টি।

‘মূলত ঢাকা থেকে সিকিম যাওয়ার রুটের বর্তমান অবস্থা, পর্যটক সুবিধা ও নিয়মিত বাস চালু করতেই এই ট্রায়াল রান চালানো হবে,’— বলেন বিআরটিসি চেয়ারম্যান।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা থেকে বাংলাবান্ধার দূরত্ব প্রায় ৫০০ কিলোমিটার, ঢাকা থেকে শিলিগুড়ির দূরত্ব ৫২০ কিলোমিটার। সেখান থেকে সিকিমের গ্যাংটকের দূরত্ব আরও ১২০ কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ের দূরত্বও প্রায় একই। এই দূরত্বে ঢাকা থেকে ট্রায়াল রানে যাওয়া বাসগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারত— দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কারিগরি টিম থাকবে।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে সিকিম-দার্জিলিংয়ে প্রথম যাত্রার সঙ্গী শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের দু’টি হুন্দাই বাস। এই বাসগুলো বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ১২ ডিসেম্বর প্রথমে ভারতের শিলিগুড়ি পৌঁছাবে। রাতে সেখানে যাত্রাবিরতি দিয়ে পরদিন ১৩ ডিসেম্বর সকালে ভারতীয় মিনি বাসে দার্জিলিং যাওয়া হবে।

এর পরদিন ১৪ ডিসেম্বর দার্জিলিং থেকে পাহাড়ি পথে তিস্তা ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছে আবার বাংলাদেশি বাসে সিকিমের রাজধানী শহর গ্যাংটকে যাওয়া হবে। ১৫ ডিসেম্বর সিকিমে অবস্থান করে শেষদিন ১৬ ডিসেম্বর গ্যাংটক থেকে ঢাকার পথে রওনা হবে বাস।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দার্জিলিংয়ের ৫ হাজার ফুট উচ্চতার বাঁকে বাংলাদেশের বড় বাসগুলোর যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে— এমন আশঙ্কায় শিলিগুড়ি থেকে বিকল্প মিনি বাস নেওয়া হবে। তবে তিস্তার তীর ঘেঁষে পাহাড়ি বাঁক বেয়ে গ্যাংটক যেতে পারবে হুন্দাই বাস— বলছে বিআরটিসি সূত্র। যে কারণে তিস্তা ব্রিজ থেকে বাংলাদেশি বাসে চড়েই গ্যাংটক ঢুকবে প্রতিনিধি দল।

এ ট্রায়াল রানের পরে একটি তারিখ ঘোষণা দিয়ে ঢাকা-সিকিম-দার্জিলিং রুটে শুরু হবে নিয়মিত বাস চলাচল। এ প্রসঙ্গে শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ জানান, তারা বাস নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ট্রায়াল রানের ঠিক পরপরই ঢাকা থেকে নিয়মিত সিকিম-দার্জিলিং রুটে বাস চালানোর চেষ্টা করবেন তারা।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম। পূর্ব হিমালয় পর্বতশ্রেণির শিলালিক পর্বতে ১৪৩৭ মিটার উচ্চতায় হিম বরফে মোড়া শহর সিকিমের গ্যাংকট। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর হিমালয় পর্বতমালার সুউচ্চ শিখরগুলোর আঁকাবাঁকা পথের সৌন্দর্য পর্যটকদের দারুণ পছন্দ। ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো বরফাচ্ছাদিত পাহাড়ভূমির নজরকাড়া শুভ্রতার দেখা মেলে সিকিমেও। এজন্য প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম এক পর্যটন গন্তব্য সিকিম।

এদিকে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি পর্যটকরা সিকিমে যেতে পারতেন না। এ বছর থেকে ফের সিকিম উন্মুক্ত হয়েছে এ দেশীয় পর্যটকদের জন্য। আর সেই সিকিমেই এবার সরাসরি ঢাকা থেকে বাস চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে বিআরটিসি। চলতি বছরের শুরু থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে বছর শেষে।

সারাবাংলা/এসএ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন