রবিবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

ভাড়া ৫০ টাকা কমিয়ে কর্ণফুলীতে ওয়াটার বাসের যাত্রা শুরু

ডিসেম্বর ৯, ২০১৯ | ৭:০৩ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সড়কপথে যানজটের ভোগান্তি এড়িয়ে কম সময়ে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াতের জন্য কর্ণফুলী নদীতে চালু ওয়াটার বাস যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে। নানামুখী প্রতিক্রিয়ায় পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মাথাপিছু ভাড়া ৫০ টাকা কমিয়ে ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় ওয়াটার বাসের প্রথম ট্রিপ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট থেকে পতেঙ্গার উদ্দেশে যাত্রা করে। এর মধ্য দিয়ে ওয়াটার বাসের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। প্রথম যাত্রায় ২০ মিনিটে যাত্রীরা সদরঘাট থেকে পতেঙ্গায় পৌঁছায়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সড়কপথে পতেঙ্গা পৌঁছাতে কমপক্ষে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।

চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্যোগে চালু হওয়া ওয়াটার বাস পরিচালনার দায়িত্বে আছে এসএস ট্রেডিং নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এসএস ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবাব হোসেন সারাবাংলাকে জানান, ২টি ওয়াটার বাস দিয়ে প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করা হয়েছে। সোমবার প্রথম ট্রিপে যাত্রী বেশি ছিলেন না। ৮ জন যাত্রী ছিলেন। তবে পরবর্তী ট্রিপগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সোমবার গড়ে প্রতি ট্রিপে ১৮ জন করে যাত্রী পরিবহন করেছে ওয়াটার বাসগুলো।

বিজ্ঞাপন

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামার সূচির ওপর ভিত্তি করে ওয়াটার বাসেরও সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন ২টি বাস ১০ বার আসা-যাওয়া করবে। সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা, ৮টা, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট, বেলা ৩টা ও সন্ধ্যা ৭টায় মোট পাঁচবার ওয়াটার বাস পতেঙ্গার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ফিরতি পথে পতেঙ্গা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা, বেলা সাড়ে ১১টা, বেলা ২টা ২৫ মিনিট, বিকেল সাড়ে ৪টা ও রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সদরঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পতেঙ্গা থেকে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাসে যাত্রীদের পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিমানবন্দরে।

শীততাপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বাসের যাত্রী ধারণক্ষমতা ২৫ জন। প্রতিটি বাস ২৫টি লাগেজ বহনে সক্ষম। প্রথমে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল মাথাপিছু ৪০০ টাকা। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ভাড়া কমানোর দাবি তুলেন অনেকে। সেই প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া ৫০ টাকা কমিয়ে ৩৫০ টাকা করা হয়।

সাবাব হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘জানুয়ারিতে আমরা আরও ২টি ওয়াটার বাস নামাব। তখন আরও বেশি সেবা দেওয়া যাবে। বিমান যাত্রীদের যানজটের সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্যই মূলত আমরা ওয়াটার বাস চালু করেছি। চট্টগ্রাম শহরে তো অনেক সমস্যা। সব সমস্যার সমাধান তো আমি করতে পারব না। কিন্তু আমার সাধ্যের মধ্যে যতটুকু আছে, ততটুকু কন্ট্রিবিউট আমি করতে চাই। আমি সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।’

মূল শহর থেকে বিমানবন্দর অভিমুখে একমাত্র সড়কে যানজটে মারাত্মক ভোগান্তির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড এবং বেসরকারি এস এস ট্রেডিংকে সেগুলো পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। নগরীর সদরঘাটে একটি টার্মিনাল এবং পতেঙ্গায় একটি পল্টুন জেটি নির্মাণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

যাত্রী ওঠা-নামার জন্য টার্মিনাল ও জেটি নির্দিষ্ট ভাড়ার ভিত্তিতে ব্যবহার করছে এস এস ট্রেডিং। এ সংক্রান্ত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, টার্মিনাল ও জেটি ব্যবহার বাবদ ওয়াটার বাস পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠান বছরে ৭০ লাখ টাকা বন্দরকে পরিশোধ করবে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর ২৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়বে।

সারাবাংলা/আরডি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন