বিজ্ঞাপন

জনবহুল স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা কিভাবে থাকে, প্রশ্ন বিপুর

December 11, 2019 | 7:28 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জনবহুল স্থানে প্লাস্টিক কারখানাসহ কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। কেরাণীগঞ্জের চুনকুঠিয়ার মতো একটি জনবহুল স্থানে কিভাবে প্লাস্টিক কারখানা গড়ে উঠেছে— সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কেরাণীগঞ্জের চুনকুঠিয়ায় প্রাইম প্যাক্ট নামে একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লেগে ৩৩ জন দগ্ধ হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন- কেরাণীগঞ্জের আগুনে দগ্ধদের সংখ্যা বেড়ে ৩৩

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নসরুল হামিদ বিপু আগুনে দগ্ধদের দেখতে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।

বিজ্ঞাপন

এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কারখানা কিভাবে এরকম জনপদের ভেতরে থাকে, তা আমার জানা নেই। আমরা আগেও চেষ্টা করেছি, এরকম কারখানা যেন জনবহুল স্থানগুলোতে না থাকে। আমরা আবাও চেষ্টা চালাব। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন জনবহুল স্থানগুলোতে কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা না থাকে।

জনবহুল স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা কিভাবে থাকে, প্রশ্ন বিপুর

প্রাইম প্যাক্ট কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী বিপু। তিনি বলেন, এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে, তা জানতেও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। বিস্তারিত তথ্য পেলে ব্রিফ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

নসরুল হামিদ বিপু আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আগুনে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার সর্বাধুনিক ব্যবস্থা আছে। এখানে পর্যাপ্ত লোকবল ও ওষুধ আছে। দগ্ধ ব্যক্তিদের চিকিৎসায় সরকার কোনো ধরনের কার্পণ্য করবে না।

আরও পড়ুন- কেরাণীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, দগ্ধ ২৩ জন ঢামেকে

এদিকে, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কেরাণীগঞ্জে দগ্ধ হয়ে এ পর্যন্ত ৩৩ জন ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। এরকম আরও ৪০ জন রোগীও যদি বার্ন ইউনিটে আসে, তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার মতো জনবল রয়েছে। তাদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের ত্রুটি হবে না।

বিজ্ঞাপন

এ কে এম নাসির বলেন, এখানে যারা ভর্তি হয়েছে, তাদের অনেকের অবস্থাই সংকটাপন্ন। তবে আমরা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। একটি প্রাণও যেন না হারাতে হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে কেরাণীগঞ্জের প্রাইম প্যাক্ট নামে ওই প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। চুনকুঠিয়া এলাকার ওই কারখানায় প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম প্লেট তৈরি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় প্রাইম প্যাক্ট কারখানায়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে ঢামেক হাসপাতালে আসতে থাকে দগ্ধ রোগীরা। শুরুতে ২৩ জনকে ভর্তি করা হয় বার্ন ইউনিটে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মোট ৩৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে ঢামেক হাসপাতালে।

বিজ্ঞাপন

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আগুনে দগ্ধদের চিকিৎসার তদারকি করছেন। বার্ন ইউনিটে স্থান প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ড, আইসিইউ ও অপারেশন থিয়েটারে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বার্ন ইউনিটে দায়িত্বরত সব ডাক্তার উপস্থিত থেকে তাদের চিকিৎসা করছেন।

সারাবাংলা/টিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন