বিজ্ঞাপন

মোস্তাফিজ এখন দুশ্চিন্তার আরেক নাম

December 12, 2019 | 5:06 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আবির্ভাব ঘটেছিল রাজার মতোই। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি; তিন ফরম্যাটের অভিষেকেই উইকেটের পসরা সাজিয়ে নিজের রাজসিক আবির্ভাবের জানান দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। পেসের সঙ্গে কাটার, স্লোয়ার ও ইয়র্কারের মিশেলে অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে উঠেছেন দেশ সেরা বোলার। লাল সবুজের টিম ম্যানেজমেন্ট তার কাঁধেই ভরসা রাখেন।

বিজ্ঞাপন

আর ঠিক সেকারণেই তার কাছে সবার চাওয়াই পর্বত সমান। কিন্তু সেই চাওয়া মোতাবেক এখন আর তাকে পাওয়া যাচ্ছে কই? দিন যত যাচ্ছে ততই যেন তার বল ভোঁতা হয়ে আসছে। বলে সেই ধার আর নেই, নেই কোনো লেংথ! একমাত্র অস্ত্র কাটার, তাও ব্যাটসম্যানরা পড়ে ফেলেছেন! এখন আর সেই অস্ত্রে কেউ ঘায়েল হয় না। চাইলে যে কেউই তাকে ছুঁড়ে মাঠের বাইরে ফেলতে পারেন।

শুরুর দিকে মুহুর্মুহু ইয়র্কারে ব্যাটসম্যানকে ভড়কে দিতে পারতেন। ইদানিং সেই ইয়র্কারও যেন পাড়ি জমিয়েছে দূর পরাবাসে! ডেথ ওভারে তাকেই লাল সবুজের একমাত্র ভরসা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু হায়! সেই ডেথ ওভারেই তিনি হয়ে উঠেছেন চরম বেহিসেবি! টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়ার সঙ্গে পাওয়ার হিসেবটা ঠিক যেন মিলছে না। সময়ের বিবর্তনে লাল সবুজের পেসারদের রাজা এখন হয়ে উঠেছেন টিম ম্যানেজমেন্টের দুচিন্তার কারণ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে সেই দুশ্চিন্তার কথাই জানালেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।

তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজ এক বছর ধরে মিসিং হয়ে যাচ্ছে। বোলিংয়ে এখন ইয়র্কার নেই। সে ইয়র্কার পাচ্ছে না। আগে একটা দারুণ ইয়র্কার ছিল বোলিংয়ে। স্লোয়ার বল এখনও আছে। পেসও আস্তে আস্তে বাড়ছে। এখন মোটামুটি ভালো পেসেই বল করছে। ইয়র্কার মিসিং। সে একটু বেশি প্রেডিক্টেবল হয়ে যাচ্ছে। এটাই কন্সার্ন মনে হছে আমার কাছে। ব্যাটসম্যানরা ওকে পড়ে ফেলছে যে ও কী করতে যাচ্ছে।‘

উদাহরণ খুঁজতে খুব বেশি দূরে যেতে হবে না। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে গতকালের ম্যাচটিকে কেইস স্টাডি হিসেবে নিলে তার বর্তমান চিত্র সম্পর্কে সম্যাক ধারণা পাওয়া যাবে। মিরপুর শের-ই-বাংলায় দিবারাত্রির এই ম্যাচে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে প্রথম দুই ওভারে মাত্র ৬ রানের বিনিময়ে একটি উইকেটও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ দিকে এসে যেন খেই হারালেন। শেষ দুই ওভারে তার বল থেকে এসেছে ৩১ রান! একটি উইকেট ছিল বটে কিন্তু তার খরুচে বল সেই উইকেটের মাহাত্ম্য ধরে রাখতে পারেনি।

দ্বিতীয় কেইস স্টাডি হিসেবে ভারত সফরে তার সফর প্রনিধানযোগ্য। স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন ম্যাচে সিরিজের টি-টোয়েন্টিতে দিয়েছেন ৯২ রান। বিনিময়ে একটি উইকেটও থলিতে তুলতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে মোস্তাফিজকেই ভাবার পরামর্শ দিলেন টাইগার নির্বাচক।

‘আমার মনে হচ্ছে ওকে চিন্তা করতে হবে। আমরা ব্যাটসম্যানরা, বোলাররা চিন্তা করি ম্যাচ শেষে যে কী হচ্ছে। ইটস হাই টাইম ফর হিম ভালো করছি বা এসব চিন্তা না করে ব্যাটসম্যান আমাকে পড়ে ফেলছে বা আমাকে দ্বিতীয় পরিকল্পনায় যেতে হবে। কোচ হয়তো তাকে বলবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ক্রিকেটারদেরও বোঝা উচিত আমার কীভাবে বোলিং করা উচিত।‘

সারাবাংলা/এমআরএফ/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন