বিজ্ঞাপন

ফের আগুন খেলা শুরু করেছে সরকার: রিজভী

December 13, 2019 | 1:10 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকার ফের আগুনের খেলা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

হাইকোর্টের সামনে মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনায় সম্প্রতি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলাকে পরিকল্পিত মিথ্যা মামলা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগের মতো আবার আগুনের খেলা শুরু করেছে সরকার। চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে দেখে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে তারা। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আবারও উদ্ভট, বানোয়াট, আজগুবি মামলার প্লাবন বইয়ে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ এখন গায়েবি তথ্য উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহে সিনিয়র নেতাদের নামে একের পর এক মামলা দিয়েই যাচ্ছে। মৃত ব্যক্তি, কারাবন্দি নেতাদেরও গায়েবি মামলার পাইকারি আসামি করা হচ্ছে।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে নতুন কোনো ইস্যু পাচ্ছে না সরকার। তাই ‘খয়ের খা’ পুলিশকে দিয়ে আমাদের ১৩৫ জন নেতাকে আসামি করে মোটরসাইকেল পোড়ানোর উদ্ভট দুই মামলা করেছে। অথচ হাইকোর্ট এলাকায় বেওয়ারিশ দুই মোটর সাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা।’

বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার জন্য সরকারের বিশেষ বাহিনী পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মোটরসাইকেল তিনটির মালিকানা কেউ দাবি না করায় মনে হচ্ছে আগুনের ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক। ঘটনার পর এখনো বেওয়ারিশ মোটরসাইকেলগুলো মালিক খুঁজে পায়নি পুলিশ! অথচ মামলা হয়েছ ১৩৫ জন নেতার নামে।

রিজভী বলেন, ‘কি হাস্যকর মামলা যে, ৩টি মোটরসাইকেল পোড়াতে ১৩৫ নেতার প্রয়োজন পড়লো। সবাই এটা জানেন যে ছাত্রলীগ যুবলীগ আওয়ামী লীগের লোকজন এবং সরকারের বিশেষ বাহিনীর পরিকল্পিত একেকটি ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির নামে মামলা দিচ্ছে।’

তিনি জানান, হাইকোর্টের সামনে মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ১৩৫ জনের মধ্যে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার বহুদিন ধরে জেলে। গত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ কারাগারে আছেন দীর্ঘদিন। অথচ তাকেও আসামি করা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, জয়নাল আবেদিন, (খালেদার আইনজীবী), শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে।

সরকারের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘এইসব করে লাভ নেই। এবার ক্ষমতা ছাড়ার জন্য প্রস্তুত হন। এই মামলা সুপরিকল্পিত এবং গায়েবি মামলা। এই সমস্ত ঘটনায় যে সরকারের লোকেরাই জড়িত, সেটির অতীতে অনেক নজীর রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রীর জামিন শুনানির আগের দিন হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বেষ্টিত ছিল এবং এক ধরনের সান্ধ্য আইন জারি ছিল। সেখানে মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোর ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।’

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় বিএনটিপ হতাশ ও ক্ষুব্ধ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গুরুতর অসুস্থ ৭৫ বছর বয়সী একজন মহিয়সী নারীকে জামিন না দেওয়া সাম্প্রতিক কালের সেরা নিষ্ঠুরতা। এটি শুধু দেশের ইতিহাসে নয়, সারাবিশ্বে নজীরবিহীন ঘটনা।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে গণতন্ত্রকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। গণতন্ত্রহীন দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে গিয়ে এই দুর্বল সরকার নানা চুক্তির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে ফেলেছে। দেশ বাঁচাতে, দেশের মানুষ বাঁচাতে, গণতন্ত্র পূণরুদ্ধার করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম, আবেদ রাজা, মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তরিকুল ইসলাম, রাজু আহমদ।

সারাবাংলা/এজেড/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন