রবিবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ বলার ধৃষ্টতা, ক্ষমা চাইলেন সংগ্রাম সম্পাদক

ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ বলার ধৃষ্টতা দেখিয়ে প্রতিবাদের মুখে ক্ষমা চেয়েছেন দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদ। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের বিক্ষোভের মুখে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভের মুখে পত্রিকাটির সম্পাদক আবুল আসাদ কার্যালয়ের বাইরে এসে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ উল্লেখ করার বিষয়টি আইনসঙ্গত হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ  বলেন,  ‘যে শহীদ শব্দটা লেখা হয়েছে এ ব্যাপারে আপত্তি আছে। শহীদ বলা অন্যায় হয়েছে। যেভাবে বলা হয়েছে, অন্যায়ভাবে শহীদ শব্দটা লেখা হয়েছে। এর সঙ্গে আমি একমত নই। এই সেন্টিমেন্টটা (মুক্তিযুদ্ধের চেতনা) দেশে আছে। তারই একটি রিপ্রেজেন্ট আপনারা করলেন।... এই শব্দটা মানুষকে যে হার্ট করেছে তাও পরিষ্কার হয়ে গেছে।... এটি আমরা ঠিক করিনি। আমরা আর এই শব্দটি লিখব না।’ এ সময় হাতজোড় করে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাফিজ আল ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, ‘সংগ্রাম সম্পাদককে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। অফিস ঘেরাওয়ের খবর পেয়ে আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তারা এখনও ঘটনাস্থলে আছেন। পুলিশ সার্বিক বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’

এদিকে দৈনিক সংগ্রামের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হলেও তাদের কেউ হতাহত হয়নি। কম্পিউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপতি ভেঙে দেওয়ায় আগামীকাল পত্রিকাটি প্রকাশ হবে কিনা এখনও সেই সিদ্ধান্ত আসেনি। আর পত্রিকাটির সম্পাদককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ বলার ধৃষ্টতা, সংগ্রাম অফিস ভাঙচুর

এর আগে, বিকাল পাঁচটা থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা ‘রাজাকার ও সংগ্রাম’ বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সাড়ে ছয়টার দিকে বিক্ষোভকারীরা পত্রিকার কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষুব্ধরা এসময় নিউজরুমসহ বিভিন্ন রুমের আসবাবপত্র-কম্পিউটার ভাঙচুর ও  পত্রিকাটির প্রধান ফটকে তালাও ঝুলিয়ে দেয়।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন