বিজ্ঞাপন

লাইসেন্সহীন সিএনজি অটোরিকশাই দেড় গুণ, বছরে রাজস্ব ক্ষতি ১৮ কোটি

December 15, 2019 | 8:30 am

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

কক্সবাজার: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবেই কক্সবাজারে লাইসেন্সহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা লাইসেন্সধারী অটোরিকশার দেড়গুণেরও বেশি। ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় করছে সরকার, তার চেয়েও বেশি রাজস্ব সরকার হারাচ্ছে প্রতিবছর। টাকার অঙ্কে তা ১৮ কোটি টাকারও বেশি। বিআরটিএ’র হিসাবের বাইরের সিএনজি অটোরিকশাকে বিবেচনায় নিলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ হবে এর চেয়েও অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা বলছেন, ট্রাফিকসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে ‘ম্যানেজ’ করে অবৈধভাবে এসব অটোরিকশা চলাচল করছে সড়কজুড়ে। কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কারণেই লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশাগুলোকে আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) স্থানীয় কার্যালয় বলছে, তারা লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশাগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে।

বিআরটিএ’র হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজারে লাইসেন্সধারী সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৭টি। এর বিপরীতে লাইসেন্স ছাড়াই সড়কে চলছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার অটোরিকশা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অবৈধ গাড়ি নিবন্ধন ও লাইসেন্স পুনঃনিবন্ধন প্রক্রিয়ার আওতায় না আসায় সরকার প্রতিবছর রাজস্ব হারাচ্ছে ১৮ কোটি ৩৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

স্থানীয়রা বলছেন, উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে এগিয়ে যাওয়া পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রতিবছর এত কোটি টাকা রাজস্ব হারানো খুবই দুঃখজনক একটি বিষয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসবে গাড়িকে আইনের আওতায় এনে বৈধতা দেওয়া হোক। এতে করে পর্যটন নগরীর রাজস্ব আদায় বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

বিআরটিএ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একেকটি সিএনজি অটোরিকশার লাইসেন্স পেতে হলে ব্যাংকে জমা দিতে হয় ১২ হাজার ১০১ টাকা। লাইসেন্স হলে নম্বর পাওয়ার পরে রোড পারমিট (সড়কে চলাচলের অনুমতি) জন্য জমা দিতে হয় ১ হাজার ১০৪ টাকা। এ ছাড়া প্রতিবছর লাইসেন্স রিনিউ করতে জমা দিতে হয় ২ হাজার ৬৬৭ টাকা, ট্যাক্স টোকেন বাবদ দিতে হয় ৩ হাজার টাকা, ইনস্যুরেন্স বাবদ দিতে হয় ৪৭০ টাকা। সবমিলিয়ে রিনিউসহ প্রতিটি গাড়িতে রাজস্ব দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৩৪১ টাকা। এই হিসাবে রিনিউয়ের খরচসহ সাড়ে ৯ হাজার গাড়ি থেকে রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৩৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকায়। এর সব টাকাই আবার জমা দিতে হয় ব্যাংকে। ফলে এই লেনদেনের পুরোটাই সরকারের তহবিলে জমা হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, বিআরটিএ’র হিসাবের বাইরে সদরসহ আট উপজেলা টেকনাফ, উখিয়া, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়ায় ও মহেশখালীতে সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড রয়েছে ৮০টির বেশি। প্রতিটি স্ট্যান্ডে ১৫০টি করে হিসাব করলেও লাইসেন্সের বাইরে থাকা অটোরিকশার সংখ্যা হয় আরও অন্তত ১২ হাজার। সে ক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকির অঙ্ক হবে ২৩ কোটিরও বেশি।

একটি জেলার কেবল একটি খাত থেকে সরকারের এত টাকা রাজস্ব ক্ষতির বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম এ বারী সারাবাংলাকে বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে এত টাকা রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই নয়। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাস্তায় ঠিকই সাড়ে ৯ হাজার সিএনজি চলছে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন মাধ্যমকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই অপকর্ম চালছে। এই অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না। গাড়িগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় আনলে রাজস্ব রক্ষার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা আনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ কক্সবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী উথোয়াইনু চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, বর্তমানে নিবন্ধিত গাড়ি (সিএনজিচালিত অটোরিকশা) রয়েছে ৬ হাজার ৪৭টি। নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে আরও সাড়ে ৯ হাজার অটোরিকশা। এর মধ্যে ১২শ অটোরিকশা নষ্ট।

অনিবন্ধিত গাড়িগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার বিষয়ে উথোয়াইনু চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বন্ধ রয়েছে। তবে নতুন লাইসেন্সের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মিটিংও হয়েছে। আশা করছি, নতুন লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া খুব শিগগিরই শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিআর/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন