বিজ্ঞাপন

দিল্লির জামিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতভর পুলিশি অভিযান

December 16, 2019 | 1:38 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সম্প্রতি ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলের (সিএবি) জের ধরে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার (১৫ ডিসেম্বর) কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই রাতভর অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। খবর এনডিটিভি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বাতিলের দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের এক পদযাত্রায় পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে পুলিশ বিনা অনুমতিতে ওই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। পুলিশী অভিযানের সময় অন্তত ১০০ শিক্ষার্থীকে আটক করা হলেও পরে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে তিনটায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে দিল্লী পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা চিন্ময় বিশওয়াল এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং ভাংচুর চালিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার পর বাধ্য হয়ে পুলিশ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ক্যাম্পাসে অভিযান চালায়।

বিজ্ঞাপন

অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে একজন নারী শিক্ষার্থী এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, তিনি ভেবেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, কিন্তু গতরাতের পুলিশি অভিযানের পর থেকে তার সেই ভুল ভেঙে গেছে। তারা এখন হোস্টেল ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবছেন।

ওই নারী শিক্ষার্থী আরও বলেন পুরো দেশের কোথাওই আর নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারছেন না। তার বন্ধুরা আগামীকাল থেকে আর ভারতীয় থাকবেন কি না, সে বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। তিনি নিজে মুসলিম না হলেও এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থেকেছেন। তিনি মনে করেন ন্যায়ের পক্ষে না দাঁড়াতে পারলে শিক্ষার কোনো মূল্য নেই।

আরেকজন শিক্ষার্থী এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, ওই অভিযানের সময় তারা লাইব্রেরিতে ছিলেন। তাদের সুপারভাইজার তাদেরকে টেলিফোনে জানিয়েছিলেন অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। এরমধ্যেই পুলিশের তাড়া খেয়ে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে এসে জড়ো হতে শুরু করে। পরে পুলিশ সেখানে আক্রমণ করলে অনেক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়েছেন। পরে তিনি হোস্টেলে ফেরার সময় দেখেছেন পুলিশের আঘাতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে আছেন।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন