বুধবার ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা, ‘জয় বাংলা’স্লোগানে মুখর বিজয় র‌্যালি

ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯ | ২:০৭ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ৪৮ বছর আগে যুদ্ধজয়ের গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তের স্মরণে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, র‌্যালি, কুচকাওয়াজ, আলোকচিত্র প্রদর্শন, গান-কবিতা, সভা-সমাবেশসহ নানা আয়োজনে চট্টগ্রামে উদযাপিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। প্রতিবছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি বের হয়। বিজয় র‌্যালি আয়োজন করে ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ’। র‌্যালির নেতৃত্ব দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

বিজ্ঞাপন

একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসা মানুষ রাজাকার-আলবদরসহ স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের দোসরদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে তাদের সামাজিকভাবে প্রত্যাখানেরও দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। এসময় মুক্তিযুদ্ধের কালজয়ী স্লোগান ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের পর থেকেই শহীদ মিনারের আশপাশে জড়ো হতে থাকে সাধারণ মানুষ। সকাল সাতটায় নগর পুলিশের চৌকস একটি দলের ‘গার্ড অব অনারের’ মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

এরপর ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন কাউন্সিলরদের নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে আওয়ামী লীগ নেতারা বিজয়ের মাসে দেশবিরোধী অপশক্তিকে রাজনীতি থেকে নিমূর্লের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানান।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মৃণাল চৌধুরীর নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা, যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সংগঠক ডা. চন্দন দাশের নেতৃত্বে সংগঠনটি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। নগরীর চেরাগির মোড়ে চলছে উদীচীর ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র’ প্রদর্শনী। বিকেলে একই স্থানে মুক্তিযুদ্ধের গণসঙ্গীত পরিবেশন করা হবে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌহানের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা, যুবমৈত্রী, ছাত্রমৈত্রী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জাসদ, বাসদ, ন্যাপ, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মহিলা সমিতি, আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বাকলিয়ায় স্টেডিয়ামে এবং নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান ও জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন পৃথকভাবে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন।

নওফেলের নেতৃত্বে বিজয় র‌্যালি

বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ প্রতিবারের মতো এবারও সকালে বিজয় র‌্যালি বের করেছে। র‌্যালি শুরুর আগে মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সব অপশক্তিকে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে চিরবিদায় জানাব। প্রতিবছর আমরা জানান দিয়ে যাব, এ প্রজন্ম স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে পরিত্যাগ করেছে এবং করতে থাকবে।’

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া র‌্যালিতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। জাতীয় পতাকা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির পাশাপাশি র‌্যালির অগ্রভাগে স্থান পায় বিজয় মেলার উদ্যোক্তা প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছবিও।

সুসজ্জিত বাদক দলের পরিবেশনায় ব্যান্ডের তালে তালে এগিয়ে যেতে থাকে র‌্যালি। ফায়ার সার্ভিস, শিল্প পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, মেরিন একাডেমি, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যামব্রিয়ান কলেজ, সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেলওয়ে স্টেশন কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ, হাজেরা তজু স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্যাডেট ফোরাম, স্বাধীনতা মেরিনার্স পরিষদ, ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা র‌্যালিতে অংশ নেয়। বিএনসিসর ক্যাডেটরাও র‌্যালিতে অংশ নেয়। এছাড়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরাও র‌্যালিতে অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের র‌্যালি উপ-পরিষদের আহ্বায়ক ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় র‌্যালির আগে সমাবেশ হয়। এসময় বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব মো. ইউনুস, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু, কোষাধ্যক্ষ সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরীসহ পরিষদের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় দিবস উদযাপন

বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির নগরীর জিইসি মোড় ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসময় একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন উপস্থিত ছিলেন।

এরপর বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় অনুপম সেন বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই এদেশ ও এদেশের মানুষকে পরাধীনতা থেকে, শোষণ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, গণযুদ্ধ। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। তারপর দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে তারা অর্জন করে স্বাধীনতা। অর্জন করে বিজয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ বাঙালি শহীদ হয়েছে, ২ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসে স্বাধীনতার জন্য এত আত্মদানের, এত সম্ভ্রমহানির নজির আর নেই। ’

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার এ কে এম তফজল হক, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহীত উল আলম, প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. তৌফিক সাঈদ, ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদের সহকারী ডিন মঈনুল হক, প্রক্টর আহমদ রাজীব চৌধুরী, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান তানজিনা আলম চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সাদাত জামান খান।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও উপাচার্যের উপদেষ্টা মো. আবু তাহের, রেজিস্ট্রার খুরশিদুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শেখ মুহাম্মদ ইব্রাহিম এবং ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান কাউসার আলম।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন