বিজ্ঞাপন

মাজার জিয়ারতে মোসলেম, মায়ের দোয়া নিয়ে সুফিয়ানের প্রচার শুরু

December 23, 2019 | 10:36 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের উপনির্বাচনে জোরালো প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা। প্রথমদিনেই স্লোগান-পথসভায় সরগরম হয়ে উঠেছে শহরতলীর জনপদ বোয়ালখালী এবং নগরীর চান্দগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা। কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও এলাকার লোকজন বলছেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এবং বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আবু সুফিয়ানের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) প্রতীক বরাদ্দের পর মোসলেম উদ্দিন নগরীতে শাহ আমানতের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। আর আবু সুফিয়ান মায়ের দোয়া নিয়ে প্রচারণায় নেমেছেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে শাহ আমানতের মাজার জিয়ারতের পর মোসলেম উদ্দিন নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় একটি নারী সমাবেশে যোগ দেন। এরপর বোয়ালখালী উপজেলায় হাওলা দরবার শরীফে যান। সেখান থেকে চৌমুহনী, চরখিজিরপুর ও পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় তিনটি পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেন। রাতে উপজেলা সদরে প্রধান নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ সময় মোসলেম উদ্দিন জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাদেশে যে উন্নয়ন যাত্রা শুরু হয়েছে, সেই উন্নয়নের ছোঁয়া পেতে নৌকাকে জয়ী করতে হবে। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, আপনাদের প্রত্যাশিত কালুরঘাট সেতুর বিষয়ে আমি অবশ্যই ভূমিকা রাখব। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, এই সেতু অবশ্যই হবে। অবহেলিত বোয়ালখালীর উন্নয়নে যা যা করা দরকার, আমি অবশ্যই করব।’

মোসলেম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলমসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আবু সুফিয়ানকে নিয়ে নগরীর বহদ্দারহাটে গণসংযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসময় তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা খুবই সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচন করব। আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে হবে। তারা ভোট চুরি করতে আসলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। চোর ধরতে হবে। সেজন্য সবাই পাহারা বসাবেন।’

বিএনপির প্রার্থী দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বোয়ালখালী-চান্দগাঁওয়ের জনগণের ওপর আমার শতভাগ আস্থা আছে। ১৩ জানুয়ারি ভোটের মাধ্যমে জনগণ প্রমাণ করে দেবে তারা বিএনপির পক্ষে আছে। প্রমাণ হবে, মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়, স্বৈরচারের পতন চায়, ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। আমরা আশা করব, প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে। নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টিত সহায়তা করবে।’

এসময় কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন, নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন লিপু, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলী আব্বাস ও সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জাসদ নেতা মঈনউদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। ১৩ জানুয়ারি নির্বাচনে আরও যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন, তারা হলেন- বিএনএফ’র আবুল কালাম আজাদ, ইসলামিক ফ্রন্টের সৈয়দ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত এবং গণফ্রন্টের এমদাদুল হক। এছাড়া জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে প্রত্যাহার করে নেন।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন