বিজ্ঞাপন

যারা রেখে গেছেন সুস্মিত পদচিহ্ন

December 29, 2019 | 5:21 pm

তাঁরা ছিলেন। তাঁরা নেই। একঝাঁক গুণী মানুষ। যারা কর্মে রেখে গেছেন সুস্মিত পদচিহ্ন। ২০১৯ এ বিগত হওয়া শিল্প, সাহিত্য ও বিনোদনের প্রিয় সেই সব মুখের ক'জনকে স্মরণ করছেন পার্থ সনজয়

বিজ্ঞাপন

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
২২ জানুয়ারি ৬৩ বছর বয়সে শান্তির ঠিকানায় ফিরলেন দেশের স্বনামধন্য মুক্তিযোদ্ধা, সুরকার ও গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। পনের বছর বয়সে যুদ্ধে যাওয়া এই শিল্পী আমৃত্যু সুরকে সঙ্গী করেছিলেন। কয়েক প্রজন্মের সুরের ভালোবাসা কিংবা একটা প্রজন্মের শিল্পী হবার কারিগর ছিলেন। পেয়েছেন একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

আল মাহমুদ
কবিতা তো মক্তবের মেয়ে...পঙক্তিতে বলেছিলেন কবি আল মাহমুদ। বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান এই কবি চলে গেলেন ১৫ ফেব্রুয়ারি ৮৩ বছর বয়সে।

বিজ্ঞাপন

শাহনাজ রহমতউল্লাহ
ছোট্ট সোনারগাঁওয়ে যেতে চেয়েছিলেন। ২৩ মার্চ ৬৭ বছর বয়সে বিধাতার কাছে গেলেন সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহ। দীর্ঘ ৫০ বছর গান গেয়েছেন। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০ বাংলা গানের তালিকায় শাহনাজ রহমতুল্লাহর গাওয়া গানই ছিল চারটি। তিনি চলে গেলেও তার ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ কালজয়ী গানগুলো থেকে যাবে।

যারা রেখে গেছেন সুস্মিত পদচিহ্ন

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদ খসরু
বাংলাদেশের সুস্থধারার চলচ্চিত্র আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মুহম্মদ খসরু মারা যান ২০১৯-এর ১৯ ফেব্রুয়ারি।

টেলি সামাদ
বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের শক্তিশালী ও জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ। পুরো নাম আবদুস সামাদ হলেও টেলি সামাদ নামেই তিনি পরিচিত। ৬ এপ্রিল ৭৪ বছর বয়সে মারা যান প্রায় ৬০০ ছবিতে অভিনয় করা টেলি সামাদ।

বিজ্ঞাপন

সালেহ আহমেদ
হুমায়ূন আহমেদের নাটক তাকে জনপ্রিয় করেছিল। অভিনেতা সালেহ আহমেদ ২৪ এপ্রিল মারা যান ৮৩ বছর বয়সে।

 

বিজ্ঞাপন

মাহবুব আলম পিয়াল
লোক সংস্কৃতি গবেষক, শিল্পী ও শিক্ষক মাহবুব আলম পিয়াল ৫০ বছর বয়সে মারা যান ২৪ এপ্রিল।

আনিসুর রহমান আনিস
কৌতুক অভিনেতা আনিসুর রহমান আনিস। ৭৮ বছর বয়সে মারা যান ২৯ এপ্রিল। আড়াই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। ১৯৬০ সালে ‘বিষকন্যা’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন আনিস। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৬৩ সালে মুক্তি পায় আনিস অভিনীত প্রথম ছবি জিল্লুর রহমান পরিচালিত ‘এই তো জীবন’।

যারা রেখে গেছেন সুস্মিত পদচিহ্ন

সুবীর নন্দী
চলে গেল দেহ, রয়ে গেল কন্ঠ। চল্লিশ বছরের ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশী গান গেয়েছেন শিল্পী সুবীর নন্দী। ৭ মে ২০১৯, ৬৬ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একুশে পদক পাওয়া অসম্ভব গুণী এই শিল্পী।

হায়াৎ সাইফ
ষাটের দশকের অন্যতম কবি হায়াৎ সাইফ। ১২ মে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান একুশে পদক পাওয়া এই কবি।

খালিদ হোসেন
একুশে পদক প্রাপ্ত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী, গবেষক ও স্বরলিপিকার খালিদ হোসেন মারা যান ২২ মে, ৭৮ বছর বয়সে।

মমতাজউদদীন আহমদ
তিনি নাট্যকার, নাট্য নির্দেশক, অভিনেতা, কলামিস্ট এবং ভাষাসৈনিক। তিনি মমতাজউদদীন আহমদ। তবে এসব পরিচয়কে ছাপিয়ে থিয়েটার তাঁকে নিয়ে গেছে অসামান্য উচ্চতায়। সেই প্রিয় মুখ মমতাজউদদীন আহমদ মারা যান ২ জুন ৮৪ বছর বয়সে।

শান্তুনু বিশ্বাস
সঙ্গীত ও নাটক, দুই ভুবনেই সমান সক্রিয় শিল্পীসত্ত্বা শান্তুনু বিশ্বাস।। একাধারে গান লিখতেন, গাইতেন, সেই সাথে নাটক লেখায় ও অভিনয়ে ছিলেন সমান পারদর্শী। না ফেরার দেশে গেলেন ১২জুলাই ৬৫ বছর বয়সে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন শান্তুনু।

রিজিয়া রহমান
বং থেকে বাংলা। কথা সাহিত্যিক রিজিয়া রহমানের লেখা ঐতিহাসিক আখ্যান। ৭৯ বছর বয়সে ১৬ আগষ্ট মারা যান এই কথা সাহিত্যিক।

খলিলুর রহমান বাবর
রংবাজ ছবিতে খল চরিত্রে তার অভিষেক। চলচ্চিত্রাভিনেতা খলিলুর রহমান বাবর ৬৭ বছর বয়সে মারা যান ২৬ আগষ্ট।

কামরুল হাসান মঞ্জু
নব্বই দশকের জনপ্রিয় আবৃত্তিকার কামরুল হাসান মঞ্জু মারা যান ২২ সেপ্টেম্বর। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩।

কালিদাস কর্মকার
দেশের সমকালীন চিত্রকলাকে বহুমাত্রিক নিরীক্ষায় এগিয়ে নিয়েছেন চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকার। তাঁকে বলা হতো, পাললিক অনুভবের শিল্পী। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এই শিল্পী মারা যান ১৮ অক্টোবর ৭৪ বছর বয়সে।

হুমায়ূন সাধু

যারা রেখে গেছেন সুস্মিত পদচিহ্ন
‘ঊন মানুষ’ টেলিছবিতে তাঁর অদম্য অভিনয় দর্শকের চোখে লেগে আছে। অভিনেতা হুমায়ূন সাধু লেখালেখিও করতেন। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে ২৫ অক্টোবর মারা যান হুমায়ূন সাধু।

মোবারক হোসেন খান
ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ'র সন্তান মোবারক হোসেন খান একই সঙ্গে সঙ্গীত গুরু ও গবেষক। মারা যান ২৪ নভেম্বর ৮১ বছর বয়সে। উপমহাদেশের কিংবদন্তী ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ তাঁর চাচা।

রবিউল হুসাইন
কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন মারা যান ২৬ নভেম্বর। ভাষা ও সাহিত্যে অবদান রাখায় ২০১৮ সালে একুশে পদক পাওয়া রবিউল হুসাইন একাধারে স্থপতি, কবি, শিল্প-সমালোচক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও সংস্কৃতিকর্মী। পেশা স্থাপত্যশিল্প হলেও সম্পৃক্ততা ছিল বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষকও ছিলেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

মাহফুজুর রহমান খান
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান মারা যান ৫ ডিসেম্বর ৭০ বছর বয়সে।

পৃথ্বিরাজ
সম্ভাবনাময় সংগীতায়োজক পৃথ্বিরাজ মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ১৫ ডিসেম্বর মারা যান।

এছাড়াও বছরের শুরুতেই ৫ জানুয়ারি পরলোক গমন করেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’-এর প্রযোজক ইফতেখারুল আলম। ১৭ মার্চ ৪৮ বছর বয়সে মারা যান শিল্পী ও সাংবাদিক সফিউল আলম রাজা। ১৯ এপ্রিল মারা যান চিত্রপরিচালক হাসিবুল ইসলাম মিজান। ৮ মে মারা যান অভিনেত্রী তমা খান। ১৯ মে মারা যান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মায়া ঘোষ। ৫ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক পারভেজ রব নিহত হন।

সারাবাংলা/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন