বিজ্ঞাপন

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করতে মাইন্ডসেটের বদল চান বাণিজ্যমন্ত্রী

January 10, 2020 | 10:33 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মাইন্ডসেট পরিবর্তন করলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করে বিশাল লাভের সুযোগ দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, ভারত, নেপাল ও ভুটান চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করলে বাংলাদেশের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের বোট ক্লাবে বেসরকারি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিনের তৈরি করা দুটি জাহাজ ভারতের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা ভারতে শুধু জাহাজ রফতানি করছি তা নয়। আমরা তৈরি পোশাকও ভারতে রফতানি করি। আরও অনেক পণ্য আমরা ভারতে রফতানি করি। আজকের বিশ্ব যৌথ অংশধারী ব্যবসায়ের। ভারত আমাদের পাশে আছে, ভারতের অনেক জনসংখ্যা। এটা অনেক বড় একটা মার্কেট। ভারতের এই বড় বাজার থেকে আমরা বেশি লাভবান হতে পারি, যদি আমরা আমাদের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করি। আমাদের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা দরকার।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আজকের দুনিয়া তো পার্টনারশিপের। অগ্রগতির জন্য পার্টনারশিপ, যে আমরা আগাব। অর্থনৈতিকভাবে আগাব। এই যে নেগেটিভ কথাগুলো এতবছর ধরে বলা হয়েছে, আজকের বাংলাদেশের অবস্থান প্রমাণ করে এসব মিথ্যা কথা। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। আমরা অনেক পথ এগোনোর জন্য আমরা প্রস্তুত। এ জন্য লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করতে হবে।’

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করতে মাইন্ডসেটের বদল চান বাণিজ্যমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং আগামীবছর আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি। এই দুই বছরকে একীভুত করে আমরা লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছি আগামী বছর আমাদের রফতানি ৬০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করব। সেই টার্গেট নিয়ে আমরা কাজ করছি। আর এই টার্গেট পূরণে জাহাজ নির্মাণশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

ভারত, নেপাল ও ভুটানের চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে বিশাল সম্ভাবনা তৈরির আশাবাদ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অ্যাডভান্টেজ যেটি আছে ভৌগোলিক। কারণ ভারতের একটা বিশাল অংশ রয়েছে পূর্বাঞ্চলে, তারা কিন্তু ল্যান্ডলক জায়গা। তাদের কিন্তু সমুদ্র নেই। তাদেরকে অনেক দূর যেতে হয়।

বিজ্ঞাপন

‘আমাদের এই এডভান্টেজ, এই সমুদ্র বন্দর। চট্টগ্রাম এবং মোংলা। এটা যেমন আমাদের নিজেদের প্রয়োজন এবং একটা বিশাল আর্নিং আমাদের হতে পারে ভারতকে ব্যবহার করতে দেওয়া এবং সে ব্যপারে আমরা লক্ষ্য করে কাজ করে চলেছি।’

‘আমাদের মোংলা পোর্টের ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে। চট্টগ্রাম পোর্টের ক্যাপাসিটি বেড়েছে। পূর্ব ভারতের এদিককার প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানুষ.. আরো বেশি হতে পারে, নেপাল রয়েছে এবং ভুটান রয়েছে। তাদের জন্য যদি ব্যবহার করে আমরা কিন্তু অনেক... রেভিনিউ আসবে। আমাদের কর্মসংস্থান হবে’ বলেন মন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, ‘এই দুটি জাহাজ রফতানি নিশ্চয় আমাদের দুই দেশের বাণিজ্যকে আরও বাড়াবে। পারসেপশনাল দিক থেকে তাকালে আমরা বাংলাদেশ থেকে দুটি জাহাজ কিনছি, এটি খুব ভালো বিষয়। তাই আমি খুবই গর্বিত আমি এই ধরনের একটি পর্বের অংশ হতে পেরেছি।’

অনুষ্ঠান শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ ভারতে বাণিজ্য ঘাটতির পূরণেও সহায়ক হবে। বাণিজ্য ঘাটতির জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ সরকার তো শুধু পরিবেশ তৈরি করে। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তখনই অন্যদেশ থেকে পন্য আমদানি করবে। যখন তারা লাভ করতে পারবে। ঘাটতি পূরণের জন্য বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগটাও একটা বড় বিষয়।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয় ২০১৫ সালে ভারতের জিন্দাল স্টীল ওয়ার্কস ওয়েস্টার্ন মেরিনকে চারটি জাহাজ নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়। এর মধ্যে প্রথম দুটি জাহাজ জেএসডব্লিউ রায়গড় ও জেএসডব্লিউ প্রতাপগড় ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপর দুটি জাহাজ জেএসডব্ল্উি সিংহগড় ও জেএসডব্লিউ লোহগড় আগামী আজ হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিটি জাহাজের বিক্রয় মূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা করে চারটি জাহাজের মূল্য ২০০ কোটি টাকা। জাহাজগুলো মুম্বাই এবং গোয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত জয়গড় বন্দর থেকে মহারাষ্ট্রে অবস্থিত ধরমতার বন্দরে খনিজ লোহা এবং কয়লাবহন করবে।

অনুষ্ঠানে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাহাজ দুটির প্রতিটি ধারণ ক্ষমতা ৮ হাজার ডিডব্লিউটি। এত ধারণ ক্ষমতা বিশিষ্ট কার্গো জাহাজ এর আগে কখনও বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। এই দুটি জাহাজই এখন পর্যন্ত দেশে নির্মিত সবচেয়ে বড় জাহাজ।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন