রবিবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

ভাষা জানা থাকলে বিনা খরচে জাপানে চাকরি, শেখাচ্ছে একুশ

জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা থাকলে এবং জাপানি ভাষা জানলেই জাপানে চাকরি পাওয়া যাবে। সুনির্দিষ্ট ১৪টি খাতের এসব চাকরিতে বেতন মিলবে মাসে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই সুযোগ। আর তা বিনা খরচে। দেশের একটি নামকরা বিদেশি ভাষাশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান একুশ দিচ্ছে জাপানি ভাষা শেখার অফার। সেখান থেকে ভাষা শিখে নিলেই বাংলাদেশের যুবশ্রেণির জন্য মিলবে জাপানে বড় বেতনে চাকরি করার সুযোগ।

বিজ্ঞাপন

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪শ দক্ষ কর্মী নেবে জাপান। আর এই কর্মীদের খরচ বহন করবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। গত বছরের আগস্ট মাসে এই ঘোষণা দেওয়ার পর জাপানের ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, শর্ত পূরণ হলে প্রথম বছরে ১৪টি খাতে ৪৭ হাজার ৫৫০ বাংলাদেশি ভিসা পাবেন।

১৪ খাতে নিয়োগ

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নার্সিং কেয়ার খাতে ৬০ হাজার, রেস্টুরেন্ট খাতে ৫৩ হাজার, কনস্ট্রাকশন খাতে ৪০ হাজার, বিল্ডিং ক্লিনিং খাতে ৩৭ হাজার, কৃষি খাতে ৩৬ হাজার ৫শ, খাবার ও পানীয় শিল্প খাতে ৩৪ হাজার, সেবা খাতে ২২ হাজার, ম্যাটেরিয়ালস প্রসেসিং খাতে ২১ হাজার ৫শ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারিজ খাতে ৭ হাজার, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি খাতে ৪ হাজার ৭শ, জাহাজ নির্মাণ শিল্প খাতে ১৩ হাজার, মৎস শিল্প খাতে ৯ হাজার, অটোমোবাইল মেইনটেন্যান্স শিল্প খাতে ২১ হাজার ৫শ এবং এয়ারপোর্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং অ্যান্ড এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স (এভিয়েশন) খাতে ২ হাজার ২শ জনকে ভিসা দেওয়া হবে।

জাপানের নাগরিকদের গড় আয়ু ৮৪ বছর। তবে দেশটিতে শতবর্ষী নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। তাদের সেবা দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি জনবল নেওয়া হবে নার্সিং খাতে। বাকি খাতগুলোতেও নেহায়েত কম জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে না।

নিয়োগ পেতে শর্ত

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাপানে এই ১৪টি খাতে নিয়োগ পেতে হলে আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হলো— আবেদনকারীকে বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক হতে হবে; বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে; বয়স হতে হবে ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে; শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে এসএসসি, এইচএসসি, ডিপ্লোমা, স্নাতক পাসকোর্স বা স্নাতকোত্তর; আবেদনে শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদের পাশাপাশি জমা দিতে হবে ডাক্তারি পরীক্ষা সনদ। আর অবশ্যই জাপানি ভাষা জানতে হবে।

ভিসা হবে ক্যাটাগরিতে

ভিসা দেওয়া হবে দু’টি ক্যাটাগরিতে। প্রথম ক্যাটাগরিতে ভিসা পেতে জাপানি ভাষা জানার পাশাপাশি ১৪টি খাতের যেকোনোটিতে দক্ষতা থাকতে হবে। ভিসা পেলে একজন ব্যক্তি পরিবার ছাড়া পাঁচ বছর পর্যন্ত জাপানে কাজ করার সুযোগ পাবেন। প্রথম পর্যায়ে পাঁচ বছরের জন্য ভিসা দেওয়া হলেও সীমিত সময়ের জন্য মেয়াদ বাড়ানো যাবে।

দ্বিতীয় ক্যাটাগরির ভিসার জন্য ২০২১ সাল থেকে আবেদন নেবে জাপান। তবে এ সুযোগ পাবেন কেবল প্রথম ক্যাটাগরির ভিসাধারীরা। কনস্ট্রাকশন ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প খাতের জন্যই দেওয়া হবে এই ভিসা। প্রথম ক্যাটাগরির ভিসাধারীরা ভাষা জ্ঞান ও নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা বিবেচনায় এ ভিসা পেতে পারেন।

দ্বিতীয় ক্যাটাগরির ভিসার সুনির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই। এই ভিসা থাকলে পরিবারের সদস্যদেরও জাপান নিয়ে যাওয়ার সুযোগ মিলবে। টানা ১০ বছর জাপানে থাকলে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অনুমতিও পাওয়া যেতে পারে।

বেতন হবে কেমন

জাপানের শ্রম আইন অনুযায়ী, একজন কর্মীর ন্যূনতম বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় ঘণ্টায় প্রায় ৭শ টাকা। একজন কর্মী দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। সে হিসাবে মাসে বেতন মিলবে প্রায় দেড় লাখ টাকা। তবে কিছু কিছু খাতে সপ্তাহে ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সে হিসাবে একজন কর্মীর মাসিক বেতন হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

শিখতে হবে জাপানি ভাষা

চীন, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে অনেক দিন থেকে কর্মী নিচ্ছে জাপান। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। দক্ষ কর্মী তৈরি করতে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। সংস্থাটির অধীনে ২৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চালু করা হয়েছে চার মাস মেয়াদি জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্স। এছাড়া বিএমইটি ২৭টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও প্রশিক্ষণ নেওয়া যাবে।

ভাষা শেখাচ্ছে একুশ

তেমনই একটি আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘একুশ’ আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে সার্কেলে। একুশের প্রতিষ্ঠাতা নূরুল ইসলাম খান সারাবাংলাকে বলেন, ১৬ বছর ধরে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত চার হাজার গ্র্যাজুয়েট তৈরি করেছি আমরা। এর মধ্যে এক হাজার গ্র্যাজুয়েট বর্তমানে জাপানে রয়েছেন।

জাপান সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ভিসা পেতে হলে প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আবেদনকারীদের জাপানের ব্যবস্থাপনায় আরও চার মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর তারা শিক্ষানবিশ হিসেবে জাপানে যাবেন।

নূরুল ইসলাম খান বলেন, এরই মধ্যে একুশ ও আমাদের সহপ্রতিষ্ঠানে দুইশ শিক্ষার্থী চার মাসের ভাষা শিক্ষা কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। আরও এক হাজার জন বুকিং দিয়ে গেছেন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের ক্লাস শুরু হবে।

একুশ আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রে চার মাসের কোর্স ফি বাবদ নেওয়া হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। পরীক্ষা ফি ৩ হাজার টাকা।

সারাবাংলা/এটি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন