বিজ্ঞাপন

সারওয়ার আলীর ওপর হামলা ‘ডাকাতির চেষ্টা’, গ্রেফতার ১

January 13, 2020 | 11:43 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআিই)। সারওয়ার আলীর স্বজনরা এ ঘটনাকে শুরু থেকেই জঙ্গি হামলা বলে দাবি করলেও গ্রেফতার তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পিবিআই বলছে, সেটি ছিল নিছক ডাকাতির চেষ্টা। তবে ঘটনার মূল হোতাকে ধরতে পারলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি করেন পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, এ ঘটনায় জড়িত মোহাম্মদ ফরহাদ নামে এক তরুণকে সোমবার ভোর ৬টায় উত্তরা থেকে গ্রেফতার করেছে তারা। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, ডাকাতির উদ্দেশ্য ঘটেছিল এ ঘটনা। তবে ঘটনাটি এখনো সম্পূর্ণ নয় বলেও মনে করছে পিবিআই। গ্রেফতার ফরহাদের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা।

বিজ্ঞাপন

সারওয়ার আলীর ওপর হামলা ‘ডাকাতির চেষ্টা’, গ্রেফতার ১

পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ বলেন, ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, এ ঘটনায় জড়িত সাত জন। এর মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী ডা. সারওয়ার আলীর স্ত্রীর সাবেক গাড়িচালক নাজমুল। গত ৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে ড. সারওয়ার আলীকে হত্যার উদ্দেশে দুই দুষ্কৃতিকারী তার উত্তরার বাসভবনে প্রবেশ করে। তারা সারওয়ার আলীকে আঘাত করতে না পারলেও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রী মাখদুমা নার্গিস, তাদের মেয়ে সায়মা আলী ও জামাতা হুমায়ুন কবির ও দুই প্রতিবেশী।

বশির আহমেদ বলেন, গ্রেফতার ফরহাদ দিনমজুর হিসেবে কাজ করে। গত ৩ জানুয়ারি তাকেসহ আরও একজনকে দৈনিক ৫০০ টাকা চুক্তিতে কাজে নেওয়া হয়। পরে এ চক্রে আরও চার জন যোগ হয়ে আশকোনার একটি রেস্টুরেন্টে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন বিকেলেও আশকোনার রোজ ভ্যালি হোটেলের ৩০৩ নম্বর কক্ষে সাত জন পরিকল্পনা করে এবং সন্ধ্যার পরে ঘটনাস্থলে যায়।

বশির আহমেদ আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে ডাকাতি বলে মনে হচ্ছে। টাকা ও স্বর্ণালংকার নিতে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ফরহাদ জানিয়েছে। তবে কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা আছ কি না, তা মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার করলে বেরিয়ে আসবে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ দু’জন ছাড়া অন্যদের নাম-পরিচয় জানানো সম্ভব হচ্ছে না।

ঘটনার দিনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় সারওয়ার আলীর মেয়ে এবং চতুর্থ তলায় তিনি থাকেন। দুর্বৃত্তদের দু’জন প্রথমে তৃতীয় তলায় গিয়ে মেয়ে, মেয়ের স্বামী ও সন্তানকে জিম্মি করে। তাদেরকে আঘাত করে সারোয়ার আলীর অবস্থান জানতে চায়। চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটের কথা বললে একজন ওপরে যায় এবং দরজায় নক করে। দরজা খোলা হলে প্রথমে সারোয়ার আলীর স্ত্রী ও পরে সারোয়ার আলীকে জিম্মি করে। পরে তৃতীয় তলা থেকে আরও একজন আসে। এসময় তারা চিৎকার করলে দ্বিতীয় তলার থাকা এক মেজর এবং তার ছেলে গিয়ে তাদের বাঁচান। এর মধ্যে সারোয়ার আলীর মেয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তা চাইলে তাৎক্ষণিক পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। এসময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, বাসায় দু’জনই গিয়েছিল, বাকি পাঁচ জন বাসার আশপাশে ছিল। ফরহাদও বাসার আশপাশে অবস্থান করছিল। তবে পুলিশ যে দু’জনকে গ্রেফতার করে আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করিয়েছে, তারা এই সাত জনের বাইরে। তবে গ্রেফতার ওই দু’জনেরও এ ঘটনায় সহযোগিতা রয়েছে।

দুর্বৃত্তরা ডাকাতি করতে গিয়ে মালামাল চুরি না করে সারওয়ার আলীর স্বজনদের জিম্মি করেছে কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে ঘটনাটি এখন ডাকাতি মনে হলেও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বাকি ছয় জনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বাকি আসামিরাও পিবিআইয়ের নজরদারিতে রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারাবাংলা/এসএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন