শনিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

সকল মেডিকেল কলেজে ইউরোলজির পূর্ণাঙ্গ ইউনিট চালুকরণের সুপারিশ

জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে ক্রমবর্ধমান ইউরোলজি সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির তুলনায় চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বল্পতা রয়েছে বলে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশের সকল মেডিকেল কলেজে ইউরোলজির পূর্ণাঙ্গ ইউনিট চালু করণের সুপারিশ করেন।

বিজ্ঞাপন

ইউরোলজি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দ্রুত পরিবর্তনশীল ও বিকাশমান একটি শাখা তাই নব উদ্ভাবিত ও প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত ও দক্ষ করে তুলতে সরকারি-বেসরকারিভাবে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন বক্তরা।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইউরোলজীক্যাল সার্জনস এর ২০২০ সনের ১৪তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে বক্তরা এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

গত শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকায় ২ দিন ব্যাপি এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘১৪তম বাউসকন ২০২০’ এর উদ্বোধন হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব জনাব আসাদুল ইসলাম, জন প্রশাসন সচিব জনাব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ সচিব মোঃ আলী নুর, বিএমএ সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডাঃ ইকবাল আর্সলানে। বাউস এর সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ কাজী রফিকুল আবেদীন এ সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব ডাঃ মোঃ শফিকুল আলম চৌধুরী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসা বিজ্ঞানে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতি সাধন করছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের চিকিৎসা চাহিদা পূরণ করতে নতুন অনেক ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ করেছে। এছাড়াও বিশেষ করে ইউরোলিজী সহ বিবিধ বিভাগে নতুন চিৎিসকরে পদ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেশী দেশসমূহ থেকে আগত কিছু সংখ্যক ইউরোলজি বিশেষজ্ঞসহ শতাধিক ইউরোলজি চিকিৎসক, সার্জন, শিক্ষার্থী ও সংগঠক এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বক্তরা বলেন- বর্তমানে দেশে ইউরোলজিস্টের সংখ্যা মাত্র ৩০০ জন এবং সরকারি মতে বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিষ্ট এর পদ মাত্র ১১৬টি যা বিশাল সংখ্যক ইউরোলিজি সংক্রান্ত রোগীর তুলনায় খুবই অপ্রতুল। দুইদিন ব্যাপি এ সম্মেলন গতকাল রোববার এক সমাপনি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

জনপ্রশাসন সচিব তার বক্তব্যে বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবা ডেলিভারী সিষ্টেম উন্নয়নে নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে এর মধ্যে ইউলোলিজিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যাতে এ সংক্রান্ত রোগীকে কাঙ্খিত সেবা দেয়া যায়।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডাঃ রফিকুল আবেদীন বলেন, উন্নত দেশগুলোর ইউরোলজি চিকিৎসার উৎকর্ষের সাথে দেশের ডাক্তারদের পরিচিত করানো, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়াশের অংশ হিসেবেই বাউস এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে যাচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ক্রমবর্ধমান ইউরোলজী সংক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দেশের সকল মেডিকেল কলেজে পূর্ণাঙ্গ ইউরোলজী ইউনিট চালু হবে এবং দেশে তৈরি হওয়া ইউরোলজি জনবলকে জনগণের চিকিৎসা সেবায় কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

১৪তম বাউসকন-২০২০ আয়োজনে যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেছে ‘ইউরোলজিক্যাল এসোসিয়েশন অব এশিয়া’, ‘এশিয়া স্কুল অব ইউরোলজি’, ইউরোলজিক্যাল সোসাইটি অব ইন্ডিয়া’ ও ‘সোসাইটি অব ইন্টারন্যাশনাল ইউরোলজি’।

সারাবাংলা/জেএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন