শনিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

চার বছরের প্রকল্প ঠেকেছে ১১ বছরে, খরচ বেড়ে দ্বিগুণ

জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপন প্রকল্পের মেয়াদ ও খরচ দু’টোই বেড়েছে। চার বছরে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়নে সময়সীমা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ১১ বছরে। আর প্রকল্পটির মূল ব্যয় ৩৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার জায়গায় সর্বশেষ সংশোধনীতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পটিতে এ দিয়ে তিন বার ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলো। প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৪৮৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে খরচ বাড়িয়ে করা হয় ৬২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এবার আরও ৯১ কোটি ১১ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা ধরে তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

একই চিত্র দেখা গেছে প্রকল্পের মেয়াদের ক্ষেত্রেও। প্রকল্প অনুমোদনের সময় এর মেয়াদ নির্ধারণ ছিল ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত। প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। পরে ব্যয় না বাড়িয়ে আরও একবছর মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। এর মধ্যে ও বাস্তবায়ন না হওয়ায় দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ৩ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছিল। এবার  তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে ২ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, পিডব্লিউডি রেট শিডিউল ২০১৮ অনুযায়ী মাটি ভরাট কাজ ছাড়া অন্যান্য পূর্ত ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে অত্যাবশ্যকীয় কয়েকটি নতুন অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) সাহিন আহমেদ সারাবাংলা বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রস্তাবিত শিল্প-নগরীতে ৮২৯টি শিল্প প্লটে ৫৭০টি শিল্প ইউনিট স্থাপিত হবে। শিল্প ইউনিটগুলোর মধ্যে ১০ শতাংশ পাবেন নারী উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া শিল্প ইউনিটগুলোতে এক লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, প্রকল্পটি প্রস্তাব পাওয়ার পর ২০১৯ সালের  ৫ আগস্ট প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। ফলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় এটি উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ বোর্ড সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে একটি শিল্প পার্ক স্থাপনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত দেন। তার জন্য সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় বিসিক ১৯৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ১৯৯৯ সালের জুলাই থেকে ২০০৪ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য বিসিক শিল্প পার্ক, সিরাজগঞ্জ শীর্ষক প্রকল্পের পিসিপি ১৯৯৯ সালের ১ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়, যা পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিল সিদ্ধান্তের জন্য প্রত্যাহার করা হয়।

পরে ফের সিরাজগঞ্জে শিল্প পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন সংস্থাপন ও প্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই  অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় সিরাজগঞ্জ মিল্প পার্কের জন্য একটি উপযোগী স্থান নির্ধারণের উদ্দেশ্য সমীক্ষা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।

সারাবাংলা/জেজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন