শনিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

কাজ বন্ধ করে কাস্টমসের সামনে সিএন্ডএফ এজেন্টদের বিক্ষোভ

জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | ১:১৪ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম কাস্টমসে আমদানি-রফতানি পণ্য শুল্কায়ন সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভে নেমেছেন ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্টরা। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ঠেকাতে সম্প্রতি সিএন্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার— এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওই চিঠি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সিএন্ডএফ এজেন্টরা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন সিএন্ডএফ এজেন্টরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাস্টমসে আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে আগে যেসব বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়েছিল, সে অনুযায়ী বন্দর থেকে আমদানি পণ্য খালাস ও রফতানি পণ্য জাহাজীকরণ চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এর আগে, গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস নীতি ও আইসিটি) বরাবরে চিঠি দেন কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম। চিঠিতে বলা হয়েছে, আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েও মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির প্রবণতা কমানো যাচ্ছে না। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঘোষণা বহির্ভূত ও ঘোষণাতিরিক্ত কিংবা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গেলেও সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না। অথচ আমদানি করা পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় খালাসের সাথে সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে। সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারকের পারস্পরিক যোগসাজশে অথবা প্ররোচণায় অধিকাংশ মিথ্যা ঘোষণার ঘটনা ঘটছে।

বিজ্ঞাপন

এতে আরও বলা হয়, ‘দি কাস্টমস অ্যাক্ট-১৯৬৯ এর সেকশন ২০৯ (২) অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণার দায় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। কারণ আইনের ওই ধারায় আমদানিকারক এবং তার মনোনীত এজেন্টকে সমভাবে দায়ী করা করা হয়েছে। এছাড়া কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০১৬ এর বিধি ৯ এর দফ ৫(খ) অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণার সাথে সম্পৃক্ত সিএন্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ রয়েছে।’

আমদানিকারকের পাশাপাশি সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির প্রবণতা বন্ধ করা যাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন কাস্টম কমিশনার।

চিঠির বিষয়টি প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সিএন্ডএফ এজেন্টরা। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্য খালাস ও রফতানি পণ্য জাহাজীকরণের ক্ষেত্রে শুল্কায়নের কাজ করে চট্টগ্রামে তিন হাজারেরও বেশি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান। তাদের অধীনে প্রায় ১২ হাজার কর্মচারী আছেন। তাদের সংগঠন সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা বৈঠক করে কাস্টমস কমিশনারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সিএন্ডএফ এজেন্টরা অনেকটা উকিলের কাজ করি। পণ্য আনে আমদানিকারক। আমরা শুধু শুল্কায়নের কাজটা করে দিই। এখন আমদানিকারকের অপরাধে যদি আমাদের লাইসেন্স বাতিলের পাঁয়তারা করা হয়, আমরা যদি এই ব্যবসা সম্মানের সঙ্গে করতে না পারি, তাহলে করব না। আমাদের কথা ক্লিয়ার।’

মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদারি প্রবণতা বাড়ার জন্য কাস্টমকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা করে। কাস্টমসের ডাটাবেইজে তার কোনো প্রতিফলন নেই। শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালা লঙ্ঘন করে অতি উৎসাহী কাস্টম কর্মকর্তারা ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম ও উচ্চশুল্ক নির্ধারণ করে আমদানি ক্ষতিগ্রস্ত করে। কায়িক পরীক্ষার নামে চলে কাস্টম কর্মকর্তাদের চাঁদাবাজি। এতে আমদানিকারকরা নিরূৎসাহিত হয়ে পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস না করে ঢাকায় আইসিডিতে অথবা অন্য বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে রাজস্ব কমে যাবার দায় আড়াল করতে কাস্টম কমিশনার সিএন্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে লেগেছেন। আমরা এই অন্যায় পদক্ষেপ মানতে পারি না। চিঠি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

এ বিষয়ে জানার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলমকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত কমিশনার আকবর হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘সিএন্ডএফ এজেন্টদের আন্দোলনের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কমিশনার স্যার সিনিয়র অফিসারদের নিয়ে বসেছেন। আশা করি একটা সুরাহা হবে।’

সারাবাংলা/আরডি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন