শনিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

‘কৃত্রিম মাটি’র ওপর পিলারে বসল পদ্মাসেতুর ২১তম স্প্যান

জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এই প্রথমবারের মতো পদ্মাসেতুর তলদেশে কৃত্রিমভাবে মাটিকে প্রক্রিয়াজাত করে গড়ে তোলা পিলারের ওপর বসানো হয়েছে স্প্যান। নদীর তলদেশের মাটি পিলার ধরে রাখার উপযোগী না হওয়ায় বিরল পদ্ধতিতে যে ১১টি পিলার গড়ে তোলা হয়, তার মধ্যে একটি এই ৩২ নম্বর পিলার।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পদ্মাসেতুর ২১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর অর্ধেকের বেশি দৃশ্যমান হলো। আগামী ২২ ও ৩০ জানুয়ারি আরও দু’টি স্প্যান বসানো হবে বলে সেতু সূত্র জানিয়েছে।

পদ্মাসেতুর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান জামিলুর রেজা চৌধুরী সারাবাংলাকে জানান, বিশেষ পদ্ধতিতে নদীর তলদেশে মাটির গুণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে এখানে পিলার গেঁথে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানিয়েছেন, এমন পদ্ধতি বাংলাদেশেই প্রথম এবং বিশ্বেও খুব একটা নজির নেই।

পদ্ধতিটির ব্যাখ্যা দিয়ে জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, পাইলের সঙ্গে স্টিলের ছোট ছোট পাইপ ওয়েল্ডিং করে দেওয়া হয়েছে। আর পাইপের ভেতর দিয়ে এক ধরনের কেমিক্যাল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে নদীর তলদেশের মাটিতে। স্কিন গ্রাউটিং নামক পদ্ধতিটি প্রয়োগের ফলে তলদেশের মাটি শক্ত রূপ ধারণ করেছে। এরপর এসব পাইল ভার বহনের সক্ষমতা অর্জন করে।

পদ্মাসেতু প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে ১১টি খুঁটি গড়ে তোলা হচ্ছে, তার মধ্যে মঙ্গলবার ৩২ ও ৩৩ নম্বর খুঁটিতে স্প্যান বসানো হলো। ৩২ নম্বর খুঁটিটি স্কিন গ্রাউটিং পদ্ধতিতে গড়ে তোলা। এরকম পিলারের ওপর প্রথমবারের মতো স্প্যান স্থাপন করা হল।

সেতু নির্মাণকারী চীনের প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি জানায়, ১৪ জানুয়ারি মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ২১তম স্প্যানটি জাজিরার দিকে নেওয়া শুরু হয়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বিকেলেই বসানো সম্ভব হয় পদ্মাসেতুর স্প্যান।

জানা যায়, সেতুর ৪২টি খুঁটির মধ্যে ৩৬টি খুঁটির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। ছয়টি খুঁটি (৮, ১০, ১১, ২৬, ২৭ ও ২৯) বাকি রয়েছে। বাকি খুঁটির মধ্যে ৮, ১০ , ১১ ও ২৯ নম্বরের কাজ আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে শেষ হবে। এছাড়া ২৬ ও ২৭ নম্বর খুঁটির কাজ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা যায়।

সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ২১টি স্প্যান স্থায়ীভাবে স্থাপন শেষে এখন পদ্মাসেতু দৃশ্যমান তিন কিলোমিটারের চেয়ে বেশি। চলতি জানুয়ারি মাস থেকে প্রতিমাসে তিনটি করে স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলীরা।

সারাবাংলা/এসএ/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন