শনিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

চট্টগ্রামে ৯ ঘণ্টা পর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | ৭:২০ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ধর্মঘট প্রত্যাহার করে ৯ ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম কাস্টমসে আমদানি-রফতানি পণ্যের শুল্কায়নের জন্য নথি দাখিল শুরু করেছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। এর ফলে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আবারও সচল হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম।

বিজ্ঞাপন

মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ঠেকাতে সম্প্রতি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে চিঠি দেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই চিঠি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। এতে শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

ওই চিঠি প্রত্যাহারের দাবির সঙ্গে হয়রানি, চট্টগ্রামের আমদানিকারকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ, কাস্টমসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মচারীদের প্রতি দুর্ব্যবহারেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু সারাবাংলাকে বলেন, ‘কাস্টম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমাদের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে যে চিঠি দিয়েছেন, সেটি আরেকটি চিঠি দিয়ে প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া এর সঙ্গে আমরা যে আট দফা দাবি দিয়েছিলাম, সেটিও মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সে কারণে আমরা আমাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সন্ধ্যা থেকে কাজ শুরু করেছি।’

গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কাস্টমস নীতি ও আইসিটি) বরাবর চিঠি দেন কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম। এতে বলা হয়, আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েও মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির প্রবণতা কমানো যাচ্ছে না। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঘোষণা বহির্ভূত ও ঘোষণার অতিরিক্ত কিংবা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গেলেও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। অথচ আমদানি করা পণ্য মিথ্যা ঘোষণায় খালাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারকের পারস্পরিক যোগসাজশে অথবা প্ররোচণায় অধিকাংশ মিথ্যা ঘোষণার ঘটনা ঘটছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দ্য কাস্টমস অ্যাক্ট-১৯৬৯-এর সেকশন ২০৯ (২) অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণার দায় সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। কারণ আইনের ওই ধারায় আমদানিকারক ও তার মনোনীত এজেন্টকে সমভাবে দায়ী করা করা হয়েছে। এছাড়া কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা ২০১৬-এর বিধি ৯-এর দফ ৫(খ) অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।

আমদানিকারকের পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিলে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির প্রবণতা বন্ধ করা যাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন কাস্টম কমিশনার।

চিঠির বিষয়টি প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্য খালাস ও রফতানি পণ্য জাহাজীকরণের ক্ষেত্রে শুল্কায়নের কাজ করে চট্টগ্রামে তিন হাজারেরও বেশি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান। তাদের অধীনে প্রায় ১২ হাজার কর্মচারী আছেন। তাদের সংগঠন সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা বৈঠক করে কাস্টমস কমিশনারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘তাদের দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে এসেছেন।’

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন