বিজ্ঞাপন

‘রেলের ৩ হাজার ৬১৪ একর জমি বেদখলে’

January 14, 2020 | 7:28 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

সংসদ ভবন থেকে: বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূমির পরিমাণ ৬১ হাজার ৮২০ দশমিক ৩৫ একর হলেও দখলে রয়েছে ৫৮ হাজার ৬০৬ দশমিক ৫৭ একর। অর্থাৎ প্রায় ৩ হাজার ৬১৪ একর জমি বেদখলে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সংসদ সদস্য মো. মোজাফফর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক সংসদে ওই তথ্য জানান। এদিন বিকেল সোয়া ৪টায় স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মূলতবি অধিবেশন শুরু হয়।

কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, ১৯৭৫ সাল থেকে রেলের জমি লিজ দেওয়া হলেও সেগুলো বেদখল হয়নি। তবে, কিছু কিছু জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়নি। ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এ খাত থেকে রেলের আয় হয়েছে ৪৫৯ কোটি ৩৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯০ টাকা। আদায় করা টাকার বাইরে লিজ গ্রহীতাদের কাছে এখনো সংস্থাটির পাওয়া রয়েছে ১২৪ কোটি ৪৩ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৬ টাকা। যথাসময়ে লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করায় এই অর্থ বকেয়া রয়েছে। খেলাপী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি পাওনা আইন-১৯৯৩ অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলা দায়ের সাপেক্ষে আদায়ের পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপিতে রেলওয়েতে ৩৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প তিনটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পসহ ৩৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেলের আওতায় ৫৫০টি মিটারগেজ ও ১৫০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ এবং ১০০টি মিটারগেজ ও ৪০টি ব্রডগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ক্রয়-সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে আবদুল রাজ্জাক বলেন, ‘ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত একটি বিশেষ রেল সার্ভিস দ্রুত চালু হবে।’ এছাড়া বিএনপির সংরক্ষিত এমপি রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিদেশি দাতা সংস্থাদের প্রেসক্রিপশান অনুযায়ী বিএনপি-জামায়াত (২০০১-০৬) জোট সরকার রেল বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সরকারের পট পরিবর্তনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে রেলকে রক্ষা করে। বর্তমানে এর ক্ষেত্র বেড়েছে। তবে, লাভ-অলাভজনক বিবেচনায় এটি আকর্ষিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেওয়া সঠিক হবে না। তবে বিমানকে বেসরকারিখাতে লিজ দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রীর পক্ষে কৃষিমন্ত্রী আবদুল রাজ্জাক বলেন, ‘রেলের অপতিত জমিগুলোকে খাসখতিয়ানে এনে সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠান করার জন্য বিশেষভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।’ বিএনপির এমপির এ ধরণের প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রশ্নের উত্তরকারী।

এছাড়া সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু ঢাকা-নওগাঁ এলাকায় আগে রেল লাইনটি ডাবল লাইন ছিল। বর্তমানে এটি চালু করার জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ নতুন করে জমি অধিগ্রহনের প্রয়োজন নেই।’

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন