বিজ্ঞাপন

যুদ্ধাপরাধী কায়সারের সাজা বহালে ‘সন্তুষ্ট’ আইনমন্ত্রী

January 14, 2020 | 9:18 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগে বহাল থাকায় ‘সন্তুষ্ট ও আনন্দিত’ বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে মানুষের জন্য মানবাধিকার পদক-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, স্বাভাবিকভাবেই আমি খুব আনন্দিত হই যখন যুদ্ধাপরাধীকে সাজা দেওয়া হয়। তার কারণ, এই সাজার মাধ্যমে  দু’টো বিষয় প্রমাণিত হয়— কোনো অপরাধী অপরাধ করলে পরে তার ক্ষমা হয় না এবং আমাদের দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি ছিল, জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলে সেই সংস্কৃতি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা কমানোর বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, সেটা বোধহয় তার ব্যাখ্যা করে বলা উচিত ছিল। কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউরে একটা ধারা আছে, যেখানে সরকারের কাছে আবেদন করলে তবে সরকার সাজা কমিয়ে দিতে পারে। আরেকটা উপায় আছে, সেটা রষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে। আমার মনে হয়, বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব হয়তো এই দু’টোর কথাই উল্লেখ করেছেন। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত না এ বিষয়ে আবেদন আসছে, কী সিদ্ধান্ত হবে তা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।

এর আগে, মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন। আপিল বিভাগ কায়সারকে ৫, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া চারটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে খালাস এবং বাকি অভিযোগগুলোতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি ও ধর্ষণের দু’টিসহ মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১৪টি ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে। ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন